জরুরি বৈঠকে কী আলোচনা করলেন নরেন্দ্র মোদি?
Progga News Desk:
কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্রগোষ্ঠীর হামলার পর সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার পরদিন আজ বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা (সিসিএস), অর্থনৈতিক (সিসিইএ) ও রাজনৈতিক (সিসিপিএ)–বিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।
ওই তিন কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আজ নয়াদিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ওই বৈঠকগুলোয় পেহেলগামের ঘটনার পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এ বৈঠক হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ অন্য সদস্যরা।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, রাজনৈতিক–বিষয়ক কমিটির বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর তাঁর সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আলোচনার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। গুতেরেস গতকাল মঙ্গলবার জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম অনুযায়ী, গুতেরেস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সেই ফোনের আলাপ সম্পর্কে জয়শঙ্কর ‘এক্স’ মারফতে জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব দ্ব্যর্থহীনভাবে পেহেলগামের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করেছেন।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছিলেন তিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে। সেই বৈঠকে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’(সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান।
বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে পরাস্ত করা দেশের জাতীয় সংকল্প। সেই লক্ষ্যে তিন সশস্ত্র বাহিনীকে ‘সময়, নিশানা ও পন্থা’ ঠিক করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন মোদি।
আগের দিনের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজকের বৈঠকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন বলে সরকারি সূত্রে জানা যায়।
সূত্র অনুযায়ী, রাজনৈতিক–বিষয়ক কমিটির (সিসিপিএ) বৈঠকে বিরোধী নেতাদের তোলা সংসদের যৌথ অধিবেশন ডাকার দাবির বিষয়টি আলোচিত হয়। পেহেলগাম কাণ্ডের পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ওই অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছেন লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী নেতা যথাক্রমে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে। এ দুজন ছাড়াও একই দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় মন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন আরজেডি সদস্য মনোজ ঝা ও সিপিআই সদস্য পি সন্তোষ কুমার।
আজ সংসদীয়–বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অর্জুন রাম মেঘাওয়াল গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদের বিশেষ যৌথ অধিবেশন ডাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদবিষয়ক কমিটি। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সিসিপির বৈঠকে এই প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


















