Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   লাল-সবুজের মহামিলনে মুখর নিউইয়র্ক: হাজারো প্রবাসীর অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬’

লাল-সবুজের মহামিলনে মুখর নিউইয়র্ক: হাজারো প্রবাসীর অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬’

লাল-সবুজের মহামিলনে মুখর নিউইয়র্ক: হাজারো প্রবাসীর অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬’

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
লাল-সবুজের পতাকা, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক, দেশাত্মবোধক গান আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা শোভাযাত্রায় নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬’। ১৭ মে অনুষ্ঠিত এ প্যারেডে অংশ নেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মূলধারার রাজনীতিক, শিল্পী-সাহিত্যিক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ততম ৬৯ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে ৩৭ এভিনিউ হয়ে ৮৭ স্ট্রিট পর্যন্ত দীর্ঘ পথজুড়ে চলে এ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক টুকরো বাংলাদেশে। লাল-সবুজের রঙে সজ্জিত ফ্লট, ব্যান্ড পার্টি, নৃত্য-সংগীত এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।


প্যারেড শুরুর আগে বাংলাদেশ ডে প‍্যারেডের আহবায়ক ও কমিউনিটির লিডার গিয়াস আহমেদ এর সভাপতিত্বে মেম্বার সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শুভেচ্ছা পর্বে বক্তব্য রাখেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, কংগ্রেসম্যান টম সোউজি, স্টেট সিনেটর জেসিকা গঞ্জালেজ, স্টেট অ্যাসেম্বলিওম্যান ও সিনেট প্রার্থী স্টিভেন রাগা, স্টেট অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ এবং সিটি কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান। বক্তারা বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদান, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন।


এ সময় আরও বক্তব্য দেন চিফ অ্যাডভাইজর ড. খন্দকার মাসুদ রহমান, ম্যানেজিং ইভেন্ট পার্টনার এম এম শাহীন, প্যারেড কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সোবহান, ইভেন্ট ডে প্রেসিডেন্ট রাসেক মালিক, বাংলাদেশ ডে প‍্যারেডের আহবায়ক ও কমিউনিটির লিডার গিয়াস আহমেদ, মঈন চৌধুরী, চিফ ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ফেমড রকি, চিফ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, আহসান হাবিব, চিফ কো-অর্ডিনেটর আব্দুল কাদের, ইয়ুথ ডিরেক্টর ফারহান আব্দুর রহমান ও আহাদ হোসেনসহ অনেকে।প্যারেড আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী জানান, এবারের প্যারেডে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ১২০টিরও অধিক সংগঠন অংশ নেয়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ডে প্যারেড এখন শুধু একটি কমিউনিটি আয়োজন নয়, এটি নিউইয়র্কের বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশিদের পরিচয়, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক।”


অ্যাডভাইজরি প্যানেলে ছিলেন নাসির খান পল, মোহাম্মদ পিয়ার, ইশতিয়াক এ. রুমি, আবুল ফজল দেদারুল ইসলাম, সারোয়ার চৌধুরী, এএসএম মঈন উদ্দিন পিন্টু, এমডি দিলীপ, বাবু খান, হারুন ভূইয়া, জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, রফিক আহমেদ, বিপ্লব সাহা, কামরুজ্জামান কামরুল, ইমাম কাজী কাইয়ুম, জেড আলম নোমি, দেওয়ান মনির, মাজেদা উদ্দিন, ডিউক খান, ফারুক হোসেন মজুমদার, ড. বার্নালী হাসান, আমিন খান জাকির, জামিল সারোয়ার জনি, জেড আর চৌধুরী লিটু, শেখ নোমান পলাশ, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম এবং এবিএম ওসমান গণি।


ভিআইপি মার্শাল ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন সেলিমা আশরাফ, নুরুল আজিম, ড. শাহজাদি পারভীন (সারা), এলিজাবেথ পলকে ও মুনমুন হাসিনা। এছাড়া ফ্রিডম ফাইটার ফোরামের গোলাম মোস্তফা খান (মিরাজ), খোরশেদ আনোয়ার বাবলু, শওকত আকবর রিচি, সাইদুর রহমান, মিজানুর চৌধুরী ও হুমায়ুন কবির মুরাদসহ অনেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।

আসন্ন নির্বাচনে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী শামসুল হকও সমর্থকদের নিয়ে প্যারেডে অংশ নেন।
প্যারেডে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনয় ও সংগীত জগতের তারকারা। উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, রিচি সোলাইমান, ইমন, হিল্লোল, নওশিন, স্বজল ও নোভাসহ আরও অনেকে। তাদের বহনকারী সুসজ্জিত ফ্লট দর্শকদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।


প্যারেডের পুরো রুটজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বাংলাদেশি আমেরিকান অফিসাররা। যান চলাচল বন্ধ রেখে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকদের প্রশংসা করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রবাসী বাংলাদেশী ও ভিনদেশি দর্শনার্থীরাও উপভোগ করেন বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য উপস্থাপন।


গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস অংশ নিলেও এবার মেয়র জোহরান মামদানি উপস্থিত ছিলেন না। তবে আয়োজকদের মতে, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবারের প্যারেডে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এবারের প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন কমিউনিটি লিডার এম আজিজ ও এম এম শাহীন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৯৮৭ সালে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিস প্রাঙ্গণ থেকে ‘রূপসী বাংলা টিভি’র উদ্যোগে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ডে প্যারেডের সূচনা হয়। পরে ২০০০ সালে বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে এস্টোরিয়া পার্কে আয়োজিত প্যারেডের অন্যতম সংগঠক ফখরুল আলম এবারের অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


প্যারেড বাস্তবায়নে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা দেন আব্দুল কাদের ভূইয়া শিশির, নূরুল আজিম, শাহনেওয়াজ, মইনুজ্জামান, মইনুল ইসলাম, নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্যারেডের থিম সং পরিবেশিত হয়। আয়োজকরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


মেম্বার সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মান বলেন, “বাংলাদেশ ডে প্যারেড শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের পরিচয়, সংস্কৃতি, স্বাধীনতার চেতনা ও ঐক্যের প্রতিচ্ছবি। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বহুজাতিক সমাজের ব্যাপক আগ্রহে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬’ এবার নিউইয়র্কে এক অনন্য মহামিলন ও উৎসবে পরিণত হয়।