Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ: বাংলাদেশ সরকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকার আহ্বান

নিউইয়র্কে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ: বাংলাদেশ সরকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকার আহ্বান

নিউইয়র্কে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ: বাংলাদেশ সরকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকার আহ্বান

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে ৩ মে নিউইয়র্কে প্রবাসী গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বাংলাদেশে গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি এবং দায়েরকৃত সকল মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়েছে। “নিউইয়র্ক জার্নালিস্ট কমিউনিটি”-র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সমাবেশস্থলে প্রদর্শিত ব্যানার-পোস্টারে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের ছবি সংযুক্ত করে লেখা ছিল—“Free all imprisoned journalists in Bangladesh, withdraw false cases and stop harassment against journalists”—যা উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর সংহতি ও প্রতিবাদের প্রতিফলন ঘটায়।


সাংবাদিক পিনাকি তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিন্নমতের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা দায়ের, গ্রেফতার এবং হয়রানির মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে। অনেক সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব স্থগিত, পাসপোর্ট জব্দ এবং বিদেশ যাত্রায় বাধা প্রদান—এসব কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অবিলম্বে সকল সাংবাদিকের মুক্তি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দখল, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি এবং শতাধিক সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।”
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ তার বক্তব্যে বলেন, “মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের আতঙ্কে দেশের সাংবাদিকরা আজ চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র টেকসই হতে পারে না।”
প্রবাসী প্রবীণ সাংবাদিক এম ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে মুক্ত ও নিরপেক্ষ রাখতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনসহ প্রবাসীদের সোচ্চার ভূমিকা অব্যাহত রাখা জরুরি। সাংবাদিক ও সংগঠক মোজাহিদ আনসারী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক নির্যাতন ও গ্রেফতারের ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।


সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা মানে জনগণের কণ্ঠরোধ করা। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে এবং যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করতে।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদি সত্যিই গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে, তবে অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, অধ্যাপক হোসনেআরা, সাপ্তাহিক ঠিকানার বার্তা সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, কমিউনিটি নেতা আবু জাফর মাহমুদ, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকনসহ অনেকে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শাহ ফারুক রহমান, শিব্বির আহমেদ, সাংবাদিক দ্বীপক আচার্য, শামিমা দোলা, সাংবাদিক উত্তম সাহা, ওয়াসিউর রহমান, অজিৎ ভৌমিক, হৃদয় মিয়া এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বেই যদি গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশটি প্রবাসী সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে স্বাধীন গণমাধ্যম রক্ষার দাবিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।