স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভিসা বাতিলের আশঙ্কা: ডায়াবেটিস–হৃদরোগসহ দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় নতুন নির্দেশনা জারি যুক্তরাষ্ট্রে
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, ওয়াশিংটন, ৬ নভেম্বর ২০২৫:
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য ভিসাপ্রার্থীদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদ্রোগ, ক্যানসার, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, কিংবা দীর্ঘস্থায়ী যে কোনো স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন—এমন ভিসাপ্রার্থীদের আবেদন বাতিল হতে পারে বলে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার এ নীতি কার্যকর করে, এবং বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নোটিশ আকারে পাঠিয়েছে, কেএফএফ হেলথ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে ভিসাপ্রক্রিয়ায় বিবেচনায় থাকত সংক্রামক রোগ, টিকাদানের ইতিহাস, মানসিক অবস্থা ও শারীরিক সুস্থতা, কিন্তু নতুন নীতিমালায় যোগ হয়েছে ব্যয়বহুল দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাগুলোর মূল্যায়ন, যা আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ বা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারেন কি না—তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, শ্বাসযন্ত্র, মেটাবলিক, স্নায়বিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসায় কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, তাই ভিসা কর্মকর্তাদের যাচাই করতে হবে আবেদনকারীর চিকিৎসা ব্যয় বহনের সামর্থ্য আছে কি না, এবং তিনি সরকারি সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি সেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না।
অলাভজনক আইনি সহায়তা সংস্থা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (ক্লিনিক)-এর সিনিয়র অ্যাটর্নি চার্লস হুইলার বলেছেন, নির্দেশনাটি সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীরাই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন, কারণ চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন করতে হচ্ছে এমন কর্মকর্তাদের দিয়ে যারা চিকিৎসক নন, ফলে ব্যক্তিগত ধারণা, পূর্বধারণা বা পক্ষপাত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারীর পরিবারের স্বাস্থ্যও বিবেচনায় নিতে হবে, সন্তান বা প্রবীণ অভিভাবকের কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ, শারীরিক অক্ষমতা বা বিশেষ যত্নের প্রয়োজন থাকলে তা আবেদনকারীর কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, আর সে কারণেও ভিসা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন আইনজীবী সোফিয়া জেনোভেস বলেছেন, নতুন নীতিতে ভিসা কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে আবেদনকারীর চিকিৎসা ইতিহাস দেখে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ব্যয়ের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মক্ষমতা যাচাই করতে, যাতে তারা বুঝতে পারেন আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে এসে জটিলতার মুখে পড়বেন কি না।
সার্বিকভাবে, স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য ‘পাবলিক চার্জ’ হয়ে উঠবেন কি না—তা নিরূপণ করতেই নতুন কঠোর নির্দেশনা গ্রহণ করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর, এবং এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের ভিসা বাতিলের আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। সূত্র, হাকিকুল ইসলাম খোকন।



















