নিউইয়র্কে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তন উৎসব অনুষ্ঠিত
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
গত ২৪ আগস্ট ২০২৫, রোববার নিউইয়র্কের উডসাইডের দিব্যধাম মন্দির প্রাঙ্গণে প্রজ্ঞা ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইনক এর আয়োজনে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তন উৎসব। সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দীর্ঘ এই ভক্তিমূলক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় পূজো, বাল্যভোগ, ভোগ আরতি, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও নাম সংকীর্তন।
নাম সংকীর্তনের মাহাত্ম্য
সনাতন ধর্মশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে—
“হরে নাম, হরে নাম, হরে নামইব কেবलম।
কলো নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা॥”
অর্থাৎ, কলিযুগে মুক্তি লাভের একমাত্র উপায় ভগবানের নামস্মরণ ও নাম সংকীর্তন। প্রবাসের মাটিতে তাই এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সনাতনী সমাজের ভক্তির চর্চা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার একটি মহতী প্রয়াস।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বিশ্বের খ্যাতনামা কীর্তন শিল্পী আজামিল দাস। তাঁর সুমধুর কণ্ঠে ভক্তিমূলক কীর্তন শ্রোতাদের গভীর ভক্তির আবহে উদ্বেলিত করে। এছাড়া নিউইয়র্কের সুপরিচিত বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির, শ্রী কৃষ্ণ মন্দির, শ্রী গৌর নিতাই নামহট্ট, গীতা মন্দির, মহামায়া মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরের ভক্তমণ্ডলী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম কীর্তন পরিবেশন করেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ হিন্দু মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শংকর পারিয়াল ধর্মীয় আলোচনা পেশ করেন। তিনি ভগবদ্ গীতার বাণী স্মরণ করিয়ে দেন—
“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত, অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥”
(অধ্যায় ৪, শ্লোক ৭)
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভগবান যুগে যুগে অবতার রূপে আবির্ভূত হয়ে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। আজকের দিনে তাঁর নাম উচ্চারণই সেই ধর্মপালনের সহজতম পথ। তিনি আরও বলেন, “যেখানে ভগবানের নাম উচ্চারিত হয়, সেখানে অশুভ শক্তি দূর হয়, শান্তি ও সম্প্রীতির ধারা প্রবাহিত হয়।”
উল্লেখযোগ্য যে, চৈতন্য মহাপ্রভু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তনকেই কলিযুগের মুক্তির মহামন্ত্র হিসেবে প্রচার করেছিলেন। তাঁর জীবনবাণী—
“সবার প্রতি দয়া করো, নাম প্রচার করো।”
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই উৎসব মহাপ্রভুর সেই শিক্ষা ও ভক্তিধারারই প্রতিধ্বনি।
অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রজ্ঞা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুনমুন সাহা, যিনি প্রজ্ঞাত্তম সাহা প্রজ্ঞাকে সঙ্গে নিয়ে সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— কমিউনিটির নেতা নবেন্দ দত্ত, ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ-এর সভাপতি ভজন সরকার, সহ-সভাপতি নিতাই নাথ, সাধারণ সম্পাদক জয়দেব গাইন, সহ-সভাপতি ভবতোষ মিত্র, সাধারণ সম্পাদক রামদাস ঘরামী, সহ-সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ, মহামায়া মন্দিরের রন্জিত সাহা , সুশীল সাহা ,ডেমোক্রেটিক ডিস্ট্রিক্ট নেতা দিলীপ নাথ, বন্হিশিখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সংগীত শিল্পী ড. সবিতা দাস, কমিউনিটির নেতা নিতাই পাল, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সভাপতি ক্ল্যারা রোজারিও, সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, সহ- সাধারণ সম্পাদক লিলি লিলি , উদীচী জ্যামাইকা শাখার সভাপতি আশীষ রায়, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুলেখা পাল, পগ্রেসিভ ফোরামের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন বাচ্চু, সাপ্তাহিক সন্ধান পত্রিকার সম্পাদক সনজীবন কুমার, ডিবিসি টিভির সাংবাদিক কানু দত্ত, মীম টিভির সম্পাদক সুজন প্রমুখ।
এছাড়া অনুষ্ঠানকে সফল করতে নিরলসভাবে সহযোগিতা করেন সনাতনী ব্যক্তিত্ব প্রদীপ সূত্রধর, রবীন্দ্র পাল, আশীষ ভৌমিক, সাগর রায়, সুপর্না সরকার, কল্যাণী সাহা( খনা ), কামনা কর্মকার, তপন বনিক, নির্মল আচার্য প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্তদের জন্য সুস্বাদু প্রসাদের আয়োজন করা হয়।
সবশেষে প্রজ্ঞা ফাউন্ডেশনের সভাপতি উত্তম কুমার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক পলাশ ঘোষ জানান, এই উৎসবের মাধ্যমে প্রবাসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিমূলক চর্চা, সনাতনীদের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন এবং নাম সংকীর্তনের ধারা আরও প্রসারিত হবে।



















