নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে আবারও বিপুল জয়ে শাহানা হানিফ — প্রবাসে বাংলাদেশি পরিচয়ের গৌরবদীপ্ত উত্থান
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউ ইয়র্ক, ইউএসএ:
নিউইয়র্ক সিটির ৩৯ নম্বর কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্টে আবারও এক দুর্দান্ত বিজয় অর্জন করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ রাজনীতিক শাহানা হানিফ। এবারের নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট, বিপুল ব্যবধানে হারিয়েছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মায়া কর্নবার্গকে।
২০২১ সালে চমক জাগানো এক অভিষেকের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি ও প্রথম মুসলিম নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন শাহানা। এবার, grassroots বা তৃণমূল রাজনীতির শক্তি আর জনগণের আস্থা নিয়েই তিনি দ্বিতীয়বারের মতো এই পদে বিজয়ী হলেন।
নিউইয়র্ক টাইমস মন্তব্য করেছে—এই বিজয় ব্রুকলিনের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক নতুন দিকচিহ্ন। প্রচলিত প্রতিষ্ঠানের সমর্থন এবং বড় অর্থায়নপুষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখেও শাহানার পক্ষে ছিল তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসর্গ, ছোট ছোট দানদাতাদের ভালোবাসা, এবং বৈচিত্র্যময় জনগণের সম্মিলিত শক্তি।
জয়ী প্রচারণার ইস্যুসমূহ হিসেবে কোভিড-উত্তর নিউইয়র্কে শাহানা হানিফের প্রচারণা বাস্তব ও জনজীবনের কেন্দ্রীয় সমস্যাগুলোকেই তুলে ধরে। তাঁর অঙ্গীকার ছিল— সাশ্রয়ী আবাসন,অভিবাসীদের অধিকার ,স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য ,পুলিশ সংস্কার । এই ইস্যুগুলোই তাঁকে নগরবাসীর কাছে একজন বিশ্বাসযোগ্য, সহানুভূতিশীল এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে পরিণত করেছে।
চট্টগ্রাম থেকে কেনসিংটন , শাহানার জীবনগাথা অভিবাসী আমেরিকার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। তাঁর বাবা-মা ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান—প্রথমে জ্যাকসন হাইটসে, পরে ব্রুকলিনের কেনসিংটনে স্থায়ী হন। শাহানা পড়াশোনা করেছেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে, সমাজবিজ্ঞান ও নারী অধিকারে। সেখানেই তার রাজনীতির চেতনা ও ন্যায়বোধের শিকড় গড়ে ওঠে।
মাত্র ২৯ বছর বয়সে, শাহানা হানিফ হয়ে ওঠেন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের প্রথম বাংলাদেশি-মুসলিম নারী সদস্য—এবং এখন দ্বিতীয়বারের মতো তার সেই ঐতিহাসিক পথচলার স্বীকৃতি মিললো জনগণের রায়ে। এই বিজয় শুধু শাহানার নয়—এটি প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস, প্রগতিশীল মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশি পরিচয়ের এক গৌরবময় নিদর্শন। সূত্র: সন্ধান | ছবি: গুগল



















