বাইডেনের অনুশোচনা, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে ডানপন্থিদের ক্ষোভ
- By Jamini Roy --
- 29 December, 2024
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর অনুশোচনায় ভুগছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে প্রার্থী ঘোষণা করায় এখন তিনি মনে করছেন, নির্বাচনে অংশ নিলে জনগণ তাকেই বিজয়ী করত।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুসারে, বাইডেন সরাসরি কমলা হ্যারিসকে দোষারোপ না করলেও, ডেমোক্র্যাটরা বিশ্বাস করেন যে বাইডেন নির্বাচনে অংশ নিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহজেই হারাতে পারতেন। বাইডেন প্রশাসনের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার পর অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মেরিক গারল্যান্ডকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন অনুতপ্ত বাইডেন।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, গারল্যান্ড ৬ জানুয়ারির ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা যথাসময়ে তদন্তে ব্যর্থ হন। তারা মনে করেন, যদি গারল্যান্ড সঠিক সময়ে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারতেন, তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া সহজ হতো।
অপরদিকে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত তার নিজ দলের ডানপন্থি সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ শ্রীরাম কৃষাণকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া এবং বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার পক্ষে তার অবস্থান ডানপন্থি শিবিরে মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প এইচ-ওয়ান বি ভিসার প্রতি তার সমর্থনের কথা জানিয়ে বলেন, "বিদেশি দক্ষ কর্মীরা মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।" তিনি আরও জানান, তার অধীনে ভিসার আওতায় আসা বহু কর্মী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন।
তবে তার এই অবস্থান ডানপন্থি সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লরা লুমার এবং ম্যাট গাৎজ তার এই অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাইডেনের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ডেমোক্র্যাট শিবিরের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে, ট্রাম্পের বিদেশি কর্মী সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তার ডানপন্থি সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি উভয় দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
একদিকে বাইডেন নিজের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প তার দলের অভ্যন্তরে সমালোচনার মুখে পড়ছেন। এই দুই নেতার সিদ্ধান্ত মার্কিন রাজনীতিতে ভবিষ্যতের পট পরিবর্তনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।