Logo

সাহিত্য সংস্কৃতি    >>   সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়লে কমবে অপরাধ, গড়ে উঠবে মানবিক সমাজ—সংস্কৃতিই পারে তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে

সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়লে কমবে অপরাধ, গড়ে উঠবে মানবিক সমাজ—সংস্কৃতিই পারে তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে

সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়লে কমবে অপরাধ, গড়ে উঠবে মানবিক সমাজ—সংস্কৃতিই পারে তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে

কাবেরী দাশ:

একটি জাতির পরিচয় শুধু তার অর্থনীতি, অবকাঠামো কিংবা প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নয়; সেই জাতির প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায় তার সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনায়। যে সমাজে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা যত বেশি বিকশিত হয়, সেই সমাজে অপরাধ, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার প্রবণতা তত কমে আসে।

সংস্কৃতি মানুষের মননকে পরিশীলিত করে। গান, কবিতা, নাটক, নৃত্য, সাহিত্যচর্চা, চিত্রকলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড মানুষের ভেতরের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিক বোধকে জাগ্রত করে। একজন মানুষ যখন সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন তার চিন্তা ইতিবাচক পথে পরিচালিত হয়।

বর্তমান সময়ে সমাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে হতাশা, অসহিষ্ণুতা ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি। এর পেছনে নানা সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক কারণ থাকলেও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শিশু-কিশোরদের যদি ছোটবেলা থেকেই বই পড়া, সংগীত, নাটক, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরি হয়।

একটি সমাজে শুধু আইন করে অপরাধ কমানো সম্ভব নয়। অপরাধের মূল কারণগুলো দূর করতে হলে মানুষের চিন্তা ও মননের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আর সেই পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো সংস্কৃতি।

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য, সংগীত, নাটক, বিতর্ক ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করবে না, তারা একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠবে।

সংস্কৃতি কখনো বিভাজন শেখায় না, সংস্কৃতি মানুষকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে। একটি গান যেমন মানুষের হৃদয়ে শান্তি সৃষ্টি করে, একটি কবিতা যেমন প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে, তেমনি একটি নাটক সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করতে পারে।

বর্তমানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতার যুগে তরুণদের একটি অংশ নেতিবাচক অনলাইন কর্মকাণ্ড, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের সামনে বিকল্প হিসেবে সৃজনশীল ও ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি সুস্থ সমাজ গড়তে হলে শুধু উন্নত রাস্তা, বড় ভবন কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন উন্নত মানসিকতার মানুষ। আর সেই মানুষ তৈরির প্রধান হাতিয়ার হলো সংস্কৃতি।

তাই অপরাধমুক্ত, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়তে হলে সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাষ্ট্র—সবাইকে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কারণ সংস্কৃতির আলো যত বেশি ছড়াবে, অন্ধকার তত কমবে। আর সেই আলোর পথেই গড়ে উঠবে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ।

কাবেরী দাশ 
সংগীত শিক্ষক ও প্রেসিডেন্ট , সংগীত পরিষদ নিউইয়র্ক