Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   গ্রিন কার্ডে নতুন কড়াকড়ি: ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ‘পাবলিক চার্জ’ যাচাইয়ে বাড়ল USCIS-এর ক্ষমতা

গ্রিন কার্ডে নতুন কড়াকড়ি: ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ‘পাবলিক চার্জ’ যাচাইয়ে বাড়ল USCIS-এর ক্ষমতা

গ্রিন কার্ডে নতুন কড়াকড়ি: ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ‘পাবলিক চার্জ’ যাচাইয়ে বাড়ল USCIS-এর ক্ষমতা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক:

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘পাবলিক চার্জ’ মূল্যায়নের পরিধি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ-সংক্রান্ত বিধিমালা বাতিল করে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু নির্দিষ্ট আয় বা চাকরি থাকা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করা হতে পারে।

তবে এসবের কোনো একটি বিষয় একাই সাধারণভাবে আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে না। USCIS কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পুরো পরিস্থিতি বা ‘totality of the circumstances’ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। ফলে চাকরি থাকা সত্ত্বেও কোনো আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড থেকে বঞ্চিত করা হবে—এমন কোনো বিধান নেই। একইভাবে কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই আবেদন সরাসরি বাতিল হবে, এমনও নয়।

নতুন ব্যবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট means-tested public benefits-এর তথ্য পাবলিক চার্জ মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। পরিস্থিতিভেদে Medicaid, SNAP বা খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা, নগদ সহায়তা, WIC এবং অন্যান্য আয়নির্ভর সরকারি সুবিধার বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। সুবিধাটি কতদিন নেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর অন্যান্য আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি কী এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতার সম্ভাবনা কতটা—এসব বিষয়ও মূল্যায়ন করা হতে পারে।

তবে ১৮ সেপ্টেম্বরের আগে পাওয়া অধিকাংশ সরকারি সুবিধা নতুন নিয়মে একইভাবে বিবেচিত হবে না। আগের নিয়মে মূলত Supplemental Security Income (SSI), Temporary Assistance for Needy Families (TANF), নির্দিষ্ট সরকারি নগদ সহায়তা এবং সরকারি খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মতো নির্দিষ্ট সুবিধা পাবলিক চার্জ মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারত।

গ্রিন কার্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করতে ব্যবহৃত Form I-485-এও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন সংস্করণের I-485 ব্যবহার করতে হবে। পুরোনো সংস্করণের ফর্মে আবেদন করলে তা গ্রহণ না করে প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। ফলে যারা বর্তমানে গ্রিন কার্ডের জন্য I-485 জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের আবেদন পাঠানোর আগে USCIS-এর সর্বশেষ ফর্ম সংস্করণ ও ফাইলিং নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

নতুন নিয়ম সব অভিবাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু মানবিক ও সুরক্ষাপ্রাপ্ত শ্রেণি পাবলিক চার্জ বিধান থেকে অব্যাহতি পেয়ে থাকে। এর মধ্যে শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, নির্দিষ্ট T ও U ভিসা আবেদনকারী, VAWA self-petitioner, Special Immigrant Juvenile এবং কিছু বিশেষ মানবিক কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। গ্রিন কার্ডধারীদের শুধু কার্ড নবায়নের ক্ষেত্রেও এই পাবলিক চার্জ পরীক্ষা সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়।

নতুন নিয়মের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের নিজেদের আর্থিক ও পেশাগত নথিপত্র আরও সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্তুত রাখার প্রয়োজন হতে পারে। চাকরির প্রমাণ, আয়, ট্যাক্স রিটার্ন, ব্যাংক ও সম্পদের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম-অভিজ্ঞতা, পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা-সংক্রান্ত নথি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নতুন নিয়মকে ‘চাকরি থাকলেও গ্রিন কার্ড বাতিল’ হিসেবে দেখা সঠিক নয়। মূল পরিবর্তন হলো, USCIS এখন আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতার সম্ভাবনা নির্ধারণে আরও বিস্তৃত তথ্য বিবেচনা করতে পারবে। প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ওপর।

অভিবাসন আইন জটিল হওয়ায় ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের USCIS-এর সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত অভিবাসন পরামর্শকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: সন্ধান২৪ কম ।