Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   পরিবারে শান্তি থেকেই বিশ্বশান্তির সূচনা: আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসে নিউইয়র্কে সহনশীলতা, মানবিকতা ও শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের আহ্বান

পরিবারে শান্তি থেকেই বিশ্বশান্তির সূচনা: আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসে নিউইয়র্কে সহনশীলতা, মানবিকতা ও শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের আহ্বান

পরিবারে শান্তি থেকেই বিশ্বশান্তির সূচনা: আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসে নিউইয়র্কে সহনশীলতা, মানবিকতা ও শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের আহ্বান

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক :
পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সমাজে শান্তি এবং সমাজে শান্তির পরিবেশ তৈরি হলে দেশেও শান্তি ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশা ও আহ্বানের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস। অনুষ্ঠানে মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপদ, সুন্দর ও মানবিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টায় জ্যাকসন হাইটসের গ্রিন টাচ সেন্টারে গ্রিন টাচ (Green Touch)-এর উদ্যোগে এ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে গ্রিন টাচের নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা ভিক্টর এলাহী লিয়াকত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। পরে বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহবুব আক্তার কবিতার সভাপতিত্বে এবং সেলিনা বানুর সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন প্রগ্রেসিভ ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাচ্চু, ড. রবিউল আলম, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিনহাজ আহমেদ শাম্মু, নাসিরুল আলম পান্ত, সেলিম রেজা, দুলাল দাশ, সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন, প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক উত্তম সাহা, নির্বাহী সম্পাদক ও আবৃত্তি শিল্পী মুনমুন সাহাসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত, সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যে শান্তির প্রয়োজনীয়তা আজ আরও বেশি। একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তুলতে হলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে। মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও মানুষের প্রতি মানুষের সম্মান বজায় রাখার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। বিভেদ ও সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায় শিশুদের ভবিষ্যৎ। বক্তারা বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেবে। তাই শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, ভালো শিক্ষা, পারিবারিক ভালোবাসা, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ এবং সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশুদের প্রতি অবহেলা নয়, বরং তাদের কথা শোনা, তাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা এবং সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করা পরিবার ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

গ্রিন টাচের নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা ভিক্টর এলাহী লিয়াকত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সকল পরিবারে শান্তি থাকলে সমাজে শান্তি থাকবে, সমাজে শান্তি থাকলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে। এ জন্য তিনি সবাইকে আরও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তির চেতনা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণ করতে পারবে।

আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সংগীতশিল্পী শুভ্রা নন্দী, শিশু শিল্পী আমিনা আলম, সেলিনা, আরিনা এবং পূর্ণাত্তম সাহা পূর্ণা। তাদের সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবের আবহ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানের সবশেষে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে গ্রিন টাচ সংগঠনের মনোগ্রাম সংবলিত ক্যাপ উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া বাতিঘরের সৌজন্যে মায়েদের শাড়ি ও কাপড় এবং বাবাদের পাঞ্জাবি উপহার দেওয়া হয়।

উপহার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে শিশু, অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শান্তির বার্তা শুধু বক্তব্য ও আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ভালোবাসা, সম্মান, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের যে বার্তা উঠে এসেছে, তা উপস্থিত সবার মধ্যে নতুন করে শান্তির প্রত্যাশা সৃষ্টি করে। পরিবার থেকে শুরু হওয়া শান্তির চর্চাই একদিন সমাজ, দেশ পেরিয়ে বিশ্বশান্তির ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে—এমন প্রত্যাশাই ছিল পুরো আয়োজনজুড়ে।