উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করেই কি রাখা হয় পাইপ বোমা? বাংলাদেশে বড় নাশকতা এড়ালো পুলিশের তৎপরতা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের রাজধানীর মতিঝিলে উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী একটি পাইপ বোমা (আইইডি) স্থাপন করা হয়েছিল বলে ধারনা পুলিশের। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও কৌশলী ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি ও নাশকতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমাসদৃশ বস্তু থেকে আলো জ্বলতে দেখে বিষয়টি ডিএমপির কন্ট্রোল রুমে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে।
এ সময় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে যাত্রা শুরু করা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ উপস্থিত মানুষকে সেখানে ‘শর্ট সার্কিট’ হয়েছে বলে জানায় এবং শোভাযাত্রাটি নিরাপদে বিকল্প পথে সরিয়ে নেয়।
রথযাত্রা এলাকা ত্যাগ করার পর রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে আইইডিটি ধ্বংস করে।
মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মুক্তা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, বোমাটি উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করেই স্থাপন করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সময়মতো বস্তুটি শনাক্ত হওয়ায় সম্ভাব্য ভয়াবহ প্রাণহানি ও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে জিআই পাইপের টুকরা, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক সার্কিট এবং অসংখ্য বিয়ারিং বল, যা থেকে বোমাটির উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের স্প্লিন্টারে পথচারী ৬৬ বছর বয়সী মিরাজ আহমেদ আহত হন। তার বাম চোখে আঘাত লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইত্তেফাক



















