Logo

আন্তর্জাতিক    >>   জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননা: সংসদে ঘটে যাওয়া ঘটনায় রাষ্ট্র কি নীরব থাকবে?

জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননা: সংসদে ঘটে যাওয়া ঘটনায় রাষ্ট্র কি নীরব থাকবে?

জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননা: সংসদে ঘটে যাওয়া ঘটনায় রাষ্ট্র কি নীরব থাকবে?

উত্তম কুমার সাহা:
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত শুধু একটি গান নয়—এটি একটি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে যখন জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়, তখন তা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং জাতীয় ঐক্যের প্রকাশ। সেই পবিত্র মুহূর্তে যদি কেউ সচেতনভাবে জাতীয় সংগীতকে অসম্মান করার চেষ্টা করে, তবে তা নিঃসন্দেহে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।

গত ১২ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার , বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সকল সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশন শুরুর প্রথা অনুযায়ী জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। কিন্তু সেই সময় বিরোধী দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য জাতীয় সংগীত চলাকালে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর চেষ্টা করেন—যা অনেকের দৃষ্টিতে জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননাকর আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতি ও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতীয় সংগীত বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাঙালি জাতিসত্তার অন্যতম প্রতীক। সংবিধান ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইন অনুযায়ী জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও রাষ্ট্রের প্রতীকসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান—জাতীয় সংসদ—যেখানে দেশের প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়ন করেন, সেখানে এ ধরনের আচরণ নিঃসন্দেহে অগ্রহণযোগ্য।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় প্রতীকসমূহের প্রতি অবমাননাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক দেশে জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সংগীত অবমাননার জন্য আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান রয়েছে। বাংলাদেশেও জাতীয় প্রতীকসমূহের মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে আইনি কাঠামো রয়েছে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে এসব প্রতীকের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা।


জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যদি কেউ জাতীয় সংগীত চলাকালে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মান প্রদর্শন করেন, তবে তা শুধু একটি ব্যক্তিগত আচরণ নয়—বরং রাষ্ট্রের মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে সংসদীয় আচরণবিধি এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
একটি স্বাধীন দেশের সংসদে জাতীয় সংগীতের মর্যাদা রক্ষা করা সকল রাজনৈতিক দলেরই দায়িত্ব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় প্রতীক নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা কোনো দলীয় বিষয় নয়; এটি একটি জাতীয় কর্তব্য।


সুতরাং প্রশ্ন উঠতেই পারে—জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনায় সংসদ ও রাষ্ট্র কি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? দেশের আইন, সংবিধান ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে অনেকেই মনে করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। সেই স্বাধীনতার প্রতীক জাতীয় সংগীতের মর্যাদা রক্ষা করা শুধু রাষ্ট্রের নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। যারা সচেতনভাবে এই মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি—যাতে ভবিষ্যতে কেউ জাতীয় প্রতীক নিয়ে এমন অবমাননাকর আচরণ করার সাহস না পায়।


উত্তম কুমার সাহা , সম্পাদক ও প্রকাশক—প্রজ্ঞা নিউজ।