Logo

রাজনীতি    >>   সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: মীমাংসিত মামলাকে ঘিরে অপপ্রচার চলছে—যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরী

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: মীমাংসিত মামলাকে ঘিরে অপপ্রচার চলছে—যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরী

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: মীমাংসিত মামলাকে ঘিরে অপপ্রচার চলছে—যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরী

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত একটি বিষয়কে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির এইচ চৌধুরী। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ব্রুকলিনের ১১৩৪ লিবার্টি অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এক্সিট রিয়েলটি কন্টিনেন্টাল-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাকির এইচ চৌধুরী বলেন, প্রতিপক্ষ একটি নিষ্পত্তিকৃত বিষয়কে কেন্দ্র করে গত এক মাস ধরে কয়েকটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই কমিউনিটি মিডিয়া কর্মীদের সামনে তিনি উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান।
অধ্যাপক সৈয়দ আজাদের সঞ্চালনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাকির চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সাউথ এশিয়ান রিয়েলটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মির্জা মোহাম্মদ হোসেন, রিয়েলটর সাইফুল হারুন এবং তাসমিয়া আনজুম।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের মার্চে শুরু হওয়া করোনাভাইরাস মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ তহবিল অপব্যবহার এবং আত্মসাতের ঘটনায় ৯ জন আসামি—যাদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত—দোষ স্বীকার করেন। ২০২৩ সালে নিউইয়র্ক স্টেটের রেসিলিয়েন্স গ্র্যান্টের অর্থ অপব্যবহার সংক্রান্ত এই মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে পৃথক সময়ে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং লাকি ল্যাং। সেই অভিযুক্তদের একজন ছিলেন জাকির এইচ চৌধুরী।


এ প্রসঙ্গে জাকির চৌধুরী বলেন, কুইন্স কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্ট তাকে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয় এবং তিনি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুরো অর্থ ইতোমধ্যেই পরিশোধ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি চাইলে ট্রায়ালে যেতে পারতাম। কিন্তু দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় তিন বছর সময় লাগতে পারত এবং ব্যবসা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সেটেলমেন্টের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছি। সরকার ও আদালতের সম্মতিতে বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে মীমাংসিত।”
তিনি আরও বলেন, মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার কারণেই তিনি বর্তমানে লাইসেন্সধারী মর্টগেজ ব্রোকার হিসেবে ৯ জন লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিয়েল এস্টেট এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অথচ ওই মামলায় ৯ জন আসামি থাকলেও গণমাধ্যমে শুধুমাত্র তার ছবিই প্রকাশ করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জাকির চৌধুরীর দাবি, তার সাবেক এক ব্যবসায়িক পার্টনারের কারণেই তিনি এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। করোনাকালে তার অফিসের নাম ব্যবহার করে ওই পার্টনার সরকারি অনুদান নেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং অনুদান পাওয়ার পর অর্ধেক অর্থ নিজে নিয়ে যান। এর ফলেই তাকে জরিমানা দিতে হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় কমিউনিটির পাশে দাঁড়াতে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে করোনায় নিহত ২৩৬ জনের পরিবারের প্রত্যেককে ৫০০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সৈয়দ আজাদ জাকির চৌধুরীর মানবিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। এক্সিট রিয়েলটি কন্টিনেন্টালের ডিরেক্টর অব সেলস মির্জা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “জাকির এইচ চৌধুরীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু মানুষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।” সূত্র: পরিচয়।