Logo

আন্তর্জাতিক    >>   শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ: স্বাধীনতার আহ্বান, ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে বিশ্ব ঐতিহ্য

শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ: স্বাধীনতার আহ্বান, ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে বিশ্ব ঐতিহ্য

শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ: স্বাধীনতার আহ্বান, ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে বিশ্ব ঐতিহ্য

সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা:

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৭ই মার্চ এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ প্রদান করেন, তা শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না; এটি ছিল স্বাধীনতার জন্য একটি জাতির চূড়ান্ত প্রস্তুতির ঘোষণা।
এই ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বব্যাপীও স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে “মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড” আন্তর্জাতিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে। ইউনেস্কো এই ভাষণকে মানবজাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, কারণ এটি একটি নিপীড়িত জাতিকে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করার শক্তিশালী আহ্বান হিসেবে বিবেচিত।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ ফরিদপুর জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সোচ্চার ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলনের ভিত্তি শক্ত করে।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি শাসকদের অবিচার ও ষড়যন্ত্রে পূর্ব বাংলার পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, 
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
এই একটি বাক্য মুহূর্তেই কোটি বাঙালির হৃদয়ে স্বাধীনতার অদম্য স্পৃহা জাগিয়ে তোলে। ভাষণের প্রতিটি শব্দে ছিল সাহস, দিকনির্দেশনা এবং প্রতিরোধের আহ্বান। বঙ্গবন্ধু তাঁর উঁচু তর্জনী তুলে বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার ডাক দেন। সেই তর্জনী যেন হয়ে ওঠে বাঙালির মুক্তির প্রতীক।
এরপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বর্বর গণহত্যা শুরু করে। কিন্তু বাঙালি জাতি দমে যায়নি। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
আজও ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা দেয়। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়, বরং স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করা এক অমর বার্তা। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ভাষণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবিকা সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শুধু অতীতের গৌরব নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাধীনতার মূল্য ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার এক চিরন্তন প্রেরণা।
সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক—বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ।