চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও নির্মম হত্যা: ৪ বছরের তাবাসুমসহ তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
দেশজুড়ে আবারও শিশু নির্যাতন ও নির্মম হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার শিকার হওয়া চার বছরের শিশু তাবাসুমের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি শিশুহত্যার ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ পাহাড়ের দুর্গম জঙ্গল থেকে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় চার বছরের শিশু তাবাসুমকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসার পর সোমবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাবাসুমের প্রতিবেশী বাবু শেখকে মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান বলেন, নিহত শিশুর পরিবার ও অভিযুক্তের পরিবার একই এলাকায় পাশাপাশি বসবাস করত এবং তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। সেই বিরোধের জের ধরেই বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন অভিযুক্ত বাবু শেখ শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটির ওপর নির্যাতনের চেষ্টা করে এবং পরে তাকে গলা কেটে হত্যা করতে উদ্যত হয়। শিশুটিকে মৃত ভেবে পাহাড়ের খাদে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।
ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির জুতা, সালোয়ার ও চকলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া চন্দ্রনাথ মন্দির এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন ও হত্যার আরও কয়েকটি ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাবাসুমের পাশাপাশি ইরা (৭) ও আমিনা (১৫) নামের দুই কিশোরীর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের কঠোর ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের নৃশংস ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোদের মধ্যে রয়েছেন— নিউইয়র্কের মহিলা পরিষদ ইউএসএ-এর সাধারণ সম্পাদক সুলেখা পাল, সংগঠক ও সমাজসেবক কাজল মাহমুদ, নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, প্রগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ ইনক-এর সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাচ্চু, সাপ্তাহিক সন্ধান পত্রিকার সম্পাদক সনজীবন কুমার, ডিবিসি চ্যানেলের সাংবাদিক কানু দত্ত, মীম টিভির সম্পাদক সুজন আহমেদ, প্রজ্ঞা ফাউন্ডেশনের সভাপতি উত্তম কুমার সাহা এবং নিউইয়র্কের নারী নেত্রী সুতিপা চৌধুরী প্রমুখ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।


















