Logo

আন্তর্জাতিক    >>   ১২ ঘণ্টায় ৯০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ছয় দিনে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত — এআই প্রযুক্তির যুদ্ধে তছনছ ইরান, নিহত হাজারের বেশি

১২ ঘণ্টায় ৯০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ছয় দিনে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত — এআই প্রযুক্তির যুদ্ধে তছনছ ইরান, নিহত হাজারের বেশি

১২ ঘণ্টায় ৯০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ছয় দিনে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত — এআই প্রযুক্তির যুদ্ধে তছনছ ইরান, নিহত হাজারের বেশি

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৯০০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। গত ছয় দিনে কমপক্ষে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে বহু শিশুও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযানে মার্কিন সেনাবাহিনী উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পালান্টির টেকনোলজিস–এর তৈরি “মার্ভেন স্মার্ট সিস্টেম” নামে একটি অত্যাধুনিক এআই প্ল্যাটফর্ম এই যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রযুক্তি বিপুল পরিমাণ স্যাটেলাইট ছবি, গোয়েন্দা তথ্য এবং শত্রুপক্ষের সামরিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করে।
সূত্র জানায়, যুদ্ধের প্রথম দিনেই এআই সিস্টেমটি বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে এক হাজারেরও বেশি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে তুলে দেয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র টাইমথি হকিংস বলেন, “এ ধরনের প্রযুক্তি সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে।”
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরাসরি যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় না; এটি কেবল তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনো সামরিক কমান্ডের হাতেই রয়েছে। তবুও এআই ব্যবহারের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে তারা মনে করছেন।
জানা গেছে, “মার্ভেন স্মার্ট সিস্টেম” একটি উন্নত কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল প্রযুক্তি, যা সেনাবাহিনীর তিন বাহিনীর গোপন তথ্য একত্র করে দ্রুত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা থেকে শুরু করে আঘাত হানার পুরো প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে কোনো লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগত। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে এখন সেই সময় কমে কয়েক ঘণ্টায় নেমে এসেছে।
বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন আমূল বদলে দিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন যুদ্ধকৌশল আগামী দিনে বৈশ্বিক সামরিক কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা। সূত্র: সনজীবন কুমার।