Logo

আন্তর্জাতিক    >>   শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের রাজনীতি: ষড়যন্ত্র, বাস্তবতা ও প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা

শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের রাজনীতি: ষড়যন্ত্র, বাস্তবতা ও প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা

শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের রাজনীতি: ষড়যন্ত্র, বাস্তবতা ও প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা

নয়ন বিশ্বাস রকি:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা, সমালোচনা এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে ঘিরে আদালত, মামলা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রচার চালানো হচ্ছে—তা বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।
অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু মামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—যে আদালতে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত নয়, যেখানে আইনের শাসনের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রাধান্য পায়, সেই আদালতের রায় জনগণের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। সেখানে প্রকৃত সাক্ষ্য-প্রমাণের পরিবর্তে যদি সাজানো অভিযোগ ও প্রচারণা সামনে আসে, তবে তা আইনের বিচার নয়, বরং এক ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বলেই বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশের জনগণ অতীতে বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যখনই জনগণের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হয়েছে, তখনই গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। তাই জনগণের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অবিচার বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাসই হলো সংগ্রামের ইতিহাস। এই দলটি বহু প্রতিকূলতা, দুঃসময় এবং রাজনৈতিক সংকট অতিক্রম করে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সত্য উন্মোচিত হবে এবং জনগণ তাদের নিজস্ব মূল্যায়নের মাধ্যমে ইতিহাসের বিচার করবে।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে সমালোচনা থাকতেই পারে। একজন রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে একই সঙ্গে তাঁর অর্জনগুলোও অস্বীকার করা যায় না। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করেছে। অনেকেই বাংলাদেশকে উন্নয়নের একটি রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন—যার পেছনে তাঁর নেতৃত্বের অবদান অনস্বীকার্য।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নেও শেখ হাসিনার ভূমিকা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তাঁদের মতে, তাঁর নেতৃত্বেই দেশ স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যেতে পেরেছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, অতীতে এবং বর্তমানেও কিছু শক্তি দেশের স্বার্থের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা ইতিহাসই নির্ধারণ করবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের জনগণ সবসময় তাদের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সচেতন এবং সময়মতো তার মূল্যায়ন করতে সক্ষম।
অনেকের বিশ্বাস, শেখ হাসিনা আবারও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে ফিরে আসবেন। তাদের মতে, জনগণের সমর্থন ও আস্থার ভিত্তিতেই তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা চলছে। সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অনেকেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হিসেবে দেখেন। তাদের শিক্ষা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারেন।
রাজনীতির এই জটিল সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে একটি কথাই বলা যায়—হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইতিহাস প্রমাণ করে, জনগণের শক্তিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শক্তি। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণের সমর্থনই একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত ভিত্তি।
আওয়ামী লীগের তৃণমূল সংগঠন বরাবরই এই দলের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত। গ্রাম থেকে শহর—তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর দাঁড়িয়েই দলটি অতীতে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করেছে। সেই শক্তির ওপর ভর করেই দলটি আবারও রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে—এমন বিশ্বাস অনেকের মধ্যেই রয়েছে।
সর্বোপরি বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক পরিবর্তনের সময় অতিক্রম করছে। এই সময়ে বিভ্রান্তি, প্রচারণা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের বিচার হয় জনগণের হাতে। জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
নয়ন বিশ্বাস রকি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক