দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের অভিযাত্রা
প্রাইমা হোসাইন:
বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে একটি দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় জুড়ে রয়েছে দেশরত্ন শেখ হাসিনা-র নেতৃত্ব। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে, তার পেছনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং অবকাঠামোগত রূপান্তরের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনীতির সূচকে পরিবর্তনটি সবচেয়ে স্পষ্ট। ২০০৬ সালে যেখানে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৪৬৩ মার্কিন ডলার, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২,৫৯১ মার্কিন ডলারে। দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির অভিঘাত সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৩তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে—যা একসময়ের “তলাবিহীন ঝুড়ি” তকমা পাওয়া দেশের জন্য এক বিশাল অর্জন।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন এই অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়, এটি আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। রাজধানীতে চালু হওয়া ঢাকা মেট্রোরেল নগরজীবনে নতুন গতি এনেছে। মহাকাশে বাংলাদেশের পদচিহ্ন এঁকে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। আর চট্টগ্রামে নির্মিত কর্ণফুলী টানেল দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত করেছে নতুন দিগন্ত। এসব মেগা প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, শিক্ষার হার ৫১.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৪.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। শিশু মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ২৩.৬৭-এ নেমে এসেছে এবং মাতৃমৃত্যু হ্রাসেও অর্জিত হয়েছে দৃশ্যমান সাফল্য। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন এবং বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ—এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ এখন আত্মনির্ভরতার দোরগোড়ায়। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ এবং মাসিক অনুদান প্রদান সামাজিক নিরাপত্তা জালকে আরও শক্তিশালী করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতির এই পুনর্গঠন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নারীর ক্ষমতায়নেও বাংলাদেশ আজ এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে “এজেন্ট অফ চেঞ্জ” ও “প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন” পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা দেশের সামাজিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে। তৈরি পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে প্রশাসন—নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ আজ দৃশ্যমান।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেছে। শেখ হাসিনা ১৭ বার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন—যা তার কূটনৈতিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর বহন করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে—উন্নয়নশীল, আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে। চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে, কিন্তু অর্জনের ভিত্তি শক্ত। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এই সময়কাল উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
(প্রাইমা হোসাইন: বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও নারী উদ্যোক্তা)


















