শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণা, রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না: শিক্ষামন্ত্রী
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আর রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন বাজেটে সব দাবি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না হলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো উপস্থাপন করা হবে। বাজেটসংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও শিক্ষক সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকার আন্তরিক। আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তার এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদারে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি) সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিয়োগব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তন এসেছে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে। কোথাও কোনো অসংগতি বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা দুর্নীতি করি না, করব না, করতে দেব না”—এই অবস্থানে সরকার অনড়। শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হবে।
অবসর ভাতা, কল্যাণ ট্রাস্ট এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে শিগগিরই পৃথক বৈঠক করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাতা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা ও সমাধান করা হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা চলছে। একজন ব্যক্তিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিবেচনা করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পায়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষা খাত সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা বৈঠকেও শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। সরকার শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি টেকসই ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
সভায় উপস্থিত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকরা যে লিখিত দাবি পেশ করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং দাবি বাস্তবায়নে একটি সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
সভায় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের নেতৃবৃন্দ শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা, বেতন কাঠামো সংস্কার, পদোন্নতি জটিলতা নিরসন এবং আর্থিক অনুদান দ্রুত প্রদানের দাবি তুলে ধরেন। মন্ত্রণালয় তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে গ্রহণ করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে। সূত্র: সমকাল


















