Logo

আন্তর্জাতিক    >>   আওয়ামী লীগ নেতাদের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জিবিইউএন-এর

আওয়ামী লীগ নেতাদের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জিবিইউএন-এর

আওয়ামী লীগ নেতাদের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জিবিইউএন-এর

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুই নেতার হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক, উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (GBUN)। সংগঠনটি এসব মৃত্যুকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে জিবিইউএন জানায়, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা, জাতীয়ভাবে স্বীকৃত সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী প্রলয় চাকী এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হুমায়ুন কবির রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেন। হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার পূর্ণ দায় রাষ্ট্রের—এ কথা উল্লেখ করে জিবিইউএন দাবি করে, এই দুই মৃত্যু ছিল সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত প্রলয় চাকীকে আটক অবস্থায় যথাযথ ও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এমনকি তার সংকটাপন্ন অবস্থার বিষয়েও পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়নি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া হুমায়ুন কবির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, যা কারাগারে চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম অবহেলা ও বিলম্বিত সেবার ইঙ্গিত দেয়।
জিবিইউএন আরও জানায়, রাষ্ট্রের হেফাজতে কোনো মৃত্যুই শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এতে রাষ্ট্রের পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হয়। এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের সংবিধান, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR), নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন (CAT) এবং বন্দিদের আচরণবিষয়ক জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলায় বারবার হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এটি একটি গভীর ও কাঠামোগত মানবাধিকার সংকটের প্রতিফলন।
জিবিইউএন-এর দাবি সমূহ:
•প্রলয় চাকী ও হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত।
•কারা কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা।
•আটক ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক জরুরি চিকিৎসা প্রোটোকল অবিলম্বে কার্যকর করা।
•কারাগারের স্বাস্থ্যসেবা ও তদারকি ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার।
•নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন সহায়তা ও প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা।
•ওপিসিএটি (OPCAT) মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠন।
জিবিইউএন জাতিসংঘ, সংশ্লিষ্ট বিশেষ প্রতিবেদনকারী, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন এবং বৈশ্বিক নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের কারাগার ও হেফাজত পরিস্থিতির ওপর নিবিড় ও ধারাবাহিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ওপর কূটনৈতিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ প্রয়োগ করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেবল নির্যাতনের সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করে। এই ঘটনায় ন্যায়বিচার কোনো রাজনৈতিক সুবিধার বিষয় নয়; এটি একটি জরুরি আইনি, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
সংগঠনটি নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে থাকার এবং সত্য, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন—
ড. আবুল হাসনাত মিল্টন
ফয়েজ খান তৌহিদ
তারিখ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (GBUN)