Logo

অপরাধ    >>   ডিয়ারবর্নে কুরআন পোড়ানোর উসকানি—ডানপন্থী সিনেট প্রার্থী জ্যাক ল্যাংয়ের উগ্র আচরণে তোলপাড়, বিক্ষোভকারীদের সাহসী প্রতিরোধে অগ্নিসংযোগ ব্যর্থ

ডিয়ারবর্নে কুরআন পোড়ানোর উসকানি—ডানপন্থী সিনেট প্রার্থী জ্যাক ল্যাংয়ের উগ্র আচরণে তোলপাড়, বিক্ষোভকারীদের সাহসী প্রতিরোধে অগ্নিসংযোগ ব্যর্থ

ডিয়ারবর্নে কুরআন পোড়ানোর উসকানি—ডানপন্থী সিনেট প্রার্থী জ্যাক ল্যাংয়ের উগ্র আচরণে তোলপাড়, বিক্ষোভকারীদের সাহসী প্রতিরোধে অগ্নিসংযোগ ব্যর্থ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
মিশিগানের ডিয়ারবর্নে মুসলিমবিরোধী সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের একজন অতি ডানপন্থী রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী জ্যাক ল্যাং প্রকাশ্যে কুরআন পোড়ানোর উসকানি দিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। মঙ্গলবারের এ সমাবেশে তিনি ইসলামের পবিত্র গ্রন্থকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলা, আগুন ধরানোর চেষ্টা, এমনকি বেকন দিয়ে অপমান করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়ান। তবে আগুন ধরানোর মুহূর্তে এক প্রতিপক্ষ বিক্ষোভকারীর দ্রুত পদক্ষেপে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়, ফলে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিক ব্রেন্ডন গুটেনশওয়াগার উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ঘটনাটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ল্যাং হাতে দাহ্য পদার্থ ভরা ক্যানিস্টার নিয়ে পবিত্র গ্রন্থের দিকে আগুন ধরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সে সময় একজন বিক্ষোভকারী ঝাঁপিয়ে পড়ে তা সরিয়ে দেন এবং বলেন,
“এটা পুড়িয়ে ফেলো না, ভাই। তুমি এটা করতে পারো না।”
তার দ্রুত উদ্যোগে কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা নস্যাৎ হয়।
এ ঘটনার পরও ল্যাং আরও উসকানিমূলক মন্তব্য করেন যে তাঁর কাছে কুরআনের আরেকটি কপি রয়েছে। অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পবিত্র গ্রন্থের ওপর বেকনের প্যাকেট আঘাত করছেন, যা দেখে বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে একজন প্রতিবাদকারী ল্যাংয়ের হাত থেকে বইটি ছিনিয়ে নেন, এবং মুহূর্তের মধ্যেই হাতাহাতি শুরু হয়। পরে আরেক বিক্ষোভকারী বইটি উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেন।
ঘটনাগুলো ল্যাংয়ের নিজ উদ্যোগে আয়োজিত বৃহত্তর মুসলিমবিরোধী বিক্ষোভের অংশ ছিল। পরবর্তীতে তিনি ডিয়ারবর্ন সিটি কাউন্সিলে গিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করে বলেন,
“মুসলিমরা, তোমরা এখানে থাকো না। আমরা তোমাদের এই দেশে দেখতে চাই না।”
ল্যাংয়ের এই ঘৃণামূলক বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ও স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী, স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি ও নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে—এ ধরনের উসকানি শুধু বিদ্বেষ ছড়ায় না, বরং বহুজাতিক আমেরিকার মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত।
ডিয়ারবর্ন পুলিশ ঘটনাস্থলের ভিডিও পর্যালোচনা করছে এবং পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করেছে।