অমলাশংকর—অঞ্জলি দে নন্দী
অঞ্জলি দে নন্দী, মম:
অমলা শংকর একজন ভারতীয় ব্যালে নর্তকী। উদয় শঙ্কর ছিলেন তাঁর স্বামী। তাঁর পুত্রের নাম - আনন্দশংকর ও কন্যার নাম - মমতাশংকর। তিনি রবিশঙ্করের ভ্রাতৃজায়া হন।
অমলা নন্দী ১৯১৯ সালের ২৭ জুন বাংলাদেশ, যশোর, মাগুরা জেলার বাটাজোড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা অক্ষয় কুমার নন্দী। অমলা ১৯৩১ সালে, যখন তিনি ১১ বছর বয়সের তখন প্যারিসে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন, সেখানে তিনি উদয় শঙ্কর এবং তাঁর পরিবারের সাথে দেখা করেন। অমলা তখন ফ্রক পরিহিতা এক বালিকা ছিলেন। তখন উদয় শঙ্করের মা হেমঙ্গিনী দেবী তাঁকে সস্নেহে একটু শাড়ি পড়তে দিয়েছিলেন।
উদয় শঙ্কর আলোর নীচে তখন ‘কার্তিকেয়’-তে মগ্ন। আর দর্শকাসনে বসে বছর ১১-র কিশোরীর মনে হয়েছিল, মঞ্চে ‘ঈশ্বর’কে দেখছেন। সেই প্রেমের শুরু। শো দেখে মুগ্ধ অমলার নৃত্যে হাতেখড়ি শঙ্করেরই কাছে প্যারিসে। সে সময় উদয় শঙ্করের ‘কালীয়দমন’ প্রযোজনায় কালীয় করলেন অমলা, শ্রীকৃষ্ণ করলেন উদয় শঙ্কর।
তারপর নাচের তালিম, ডান্স গ্রুপের সঙ্গে দেশ বিদেশ ঘুরে অনুষ্ঠান। অবশেষে মাত্র ১৯ বছর বয়সে সাত পাক। তাঁরা ১৯৪২ সালের ৮ই মার্চ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ভারতের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি শহর আলমোড়া-তে তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এখানেই উদয় শঙ্করের বিখ্যাত 'ইন্ডিয়ান কালচার সেন্টার' নামক নাচের স্কুলটি ছিল।
অমলা নন্দীর উদয় শঙ্করের সঙ্গে বিয়ের পরে অমলা শংকর হন। তাঁরা দুজনে নৃত্যের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন এবং সারা বিশ্ব জুড়ে অভিনয় করেছিলেন।
অমলা শঙ্কর কল্পনা (১৯৪৮) নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এই ছবিটির রচনা, সহ-প্রযোজনা, পরিচালনা করেছিলেন তাঁর স্বামী উদয় শঙ্কর, যিনি ছবিতেও উপস্থিত ছিলেন। স্ত্রী অমলা, উমার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অমলা শঙ্কর ২০১২ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন যেখানে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছিল। অমলা শঙ্কর একটি সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন- "২০১২ কান ফিল্ম ফেস্টিভাল ... আমি কান ফিল্ম ফেস্টিভালের সর্বকনিষ্ঠ চলচ্চিত্র তারকা হিসাবে এসেছি... আমি ৮১ বছর পরে কানে আবার এলাম"।
তিনি নৃত্য কলার জন্য ২০১১ সালে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদত্ত পুরস্কার - বঙ্গবিভূষণ পুরষ্কার পান।১৯৯১ সালে তিনি ভারত সরকারের পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত হন। ২৪ জুলাই ২০২০ কোলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল - ১০১ বছর।
অঞ্জলি দে নন্দী, মম



















