আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬
সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা:
আন্তর্জাতিক নারী দিবস প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়। নারীর অধিকার, মর্যাদা, সমতা ও ক্ষমতায়নের সংগ্রামকে স্মরণ এবং নতুন করে সেই অঙ্গীকারকে দৃঢ় করার জন্যই এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় নারী কেবল পরিবার বা সমাজের অংশই নন, বরং উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শক্তি।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের সাক্ষ্য বহন করে। ১৮৫৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অমানবিক কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন। সেই আন্দোলন নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হতে থাকে এবং ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “Give to Gain” (দিয়ে অর্জন)। এই প্রতিপাদ্যের মূল বক্তব্য হলো—নারীর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ করা মানেই একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। নারীর অগ্রগতি মানে কেবল একটি পরিবারের নয়, বরং সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হওয়া।
বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক নারী দিবস গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে সরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আলোচনা সভা, সেমিনার, শোভাযাত্রা এবং সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়গুলোকে নতুন করে সামনে আনা হয়।
বাংলাদেশের সমাজে নারীর অগ্রযাত্রা আজ দৃশ্যমান। শিক্ষা, রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবিকা সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমাজ উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর মতো নেতৃত্ব ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে অনুপ্রেরণা জোগায় এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল একটি উদযাপনের দিন নয়; এটি সমতা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদার জন্য চলমান সংগ্রামের প্রতীক। নারী ও পুরুষ একসঙ্গে এগিয়ে গেলে তবেই একটি উন্নত, সমতাভিত্তিক এবং মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নারীর ক্ষমতায়ন মানেই মানবতার অগ্রগতি।
সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ।


















