Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   জাতিসংঘের সামনে ৩৫ বছরের ঐতিহ্য: নিউইয়র্কে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের একুশ উদযাপন

জাতিসংঘের সামনে ৩৫ বছরের ঐতিহ্য: নিউইয়র্কে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের একুশ উদযাপন

জাতিসংঘের সামনে ৩৫ বছরের ঐতিহ্য: নিউইয়র্কে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের একুশ উদযাপন

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ভাষার মর্যাদা ও আত্মত্যাগের অমর স্মৃতিকে ধারণ করে টানা ৩৫ বছর ধরে জাতিসংঘের সদর দফতরের সামনে একুশ উদযাপনের ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশ সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয় গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগঘন পরিবেশে।
বিশ্বের কূটনৈতিক কেন্দ্র United Nations Headquarters-এর সামনে উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ শিশুর হাতে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রবাসী বাঙালিরা সম্মিলিত কণ্ঠে ভাষা দিবসের গান, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অমর একুশের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিত সাহার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অর্থনীতিবিদ এবং নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬-এর আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম। তিনি ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘের সামনে একুশ উদযাপনের সূচনা ও প্রবাস জীবনে এর সাংস্কৃতিক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার বিভিন্ন দিক বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাঙালির চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজউদ্দীন আহমেদ, ব্রঙ্কস সোসাইটির জহির উদ্দীন ও বিজয় সাহা।
৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন,“আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অমর একুশে আমাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস, ভাষার গৌরব ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার।”আয়োজকদের পক্ষে কমিউনিটি ওয়ার্কার ছাখাওয়াৎ আলী বার্তাটি পাঠ করেন।
মোহাম্মদ শাহীন হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় একুশের তিনটি কালজয়ী গান— “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি”, “রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনও করিলিরে বাঙালি” এবং “দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারো দানে পাওয়া নয়”— যা সম্মিলিত কণ্ঠে গেয়ে উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। তবলায় ছিলেন হারাধন কর্মকার। গিটার সহযোগে কাব্য পরিবেশন করেন “ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা”। ‘একুশ আগুন রঙের পাখি’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন ভাষা সাহা।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নতুন প্রজন্মের ধীরাজ, কৃতী ও শ্যামার উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এছাড়া টাইমস স্কয়ার দুর্গা উৎসব এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিরুপমা সাহা, ব্রঙ্কস সোসাইটি, জন জে কলেজ বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাঙালির চেতনা মঞ্চ, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, আবাহনী ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের প্রতিনিধি সারা রওশন এবং কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট শক্তি দাস গুপ্তও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংস্কৃতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয় এবং প্রত্যাশা করা হয়— বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণে নবনির্বাচিত সরকার আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
প্রবাসে একুশের এই ধারাবাহিক উদযাপন প্রমাণ করে— ভাষা শুধু আবেগ নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের অনির্বাণ শিখা।