ভোট শান্তিপূর্ণ, তবে অংশগ্রহণে বড় প্রশ্ন: বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের গুরুতর উদ্বেগ
প্রিয় তোষ দে:
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন আসনে ভোট গণনা চলছে। দৃশ্যমান সহিংসতা সীমিত থাকলেও নির্বাচন-পরবর্তী আলোচনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে ভোটার উপস্থিতি ও সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষক দলের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। তবে বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম এবং অসম। ইইউ জোর দিয়ে বলেছে, গণতান্ত্রিক বৈধতা কেবল ভোটের দিনের কারিগরি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলকতা এবং ভোটারদের প্রকৃত পছন্দের সুযোগ নিশ্চিত হওয়াও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) জানিয়েছে, যেখানে ভোট হয়েছে সেখানে প্রযুক্তিগতভাবে নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হয়েছে। তবে বহু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। আইআরআই ইঙ্গিত দিয়েছে, নির্বাচনের কারিগরি সঠিকতা এবং সামগ্রিক গণতান্ত্রিক বৈধতা—বিশেষত ভোটার আস্থা ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশ—এই দুই বিষয় আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্তর্ভুক্তিমূলকতা, প্রার্থী ও ভোটারদের স্বাধীনতা এবং ভোটারদের সামনে অর্থবহ বিকল্প ছিল কি না—এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে নির্বাচনকে শুধু ভোটের দিন দিয়ে বিচার করলে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না; পুরো প্রক্রিয়াই গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের আলোকে মূল্যায়ন করতে হয়।
পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে কম ভোটার উপস্থিতির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক বিকল্পের অভাব, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় বা অনাগ্রহ, ফলাফল পূর্বনির্ধারিত—এমন জনমত, এবং একযোগে অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি।
এখনও পর্যন্ত কোনো বড় পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিনিধিত্বমূলক বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। কূটনৈতিক মহল চূড়ান্ত ভোটার উপস্থিতির তথ্য, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং বিরোধী দল ও সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ পর্যবেক্ষণ করে অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, সহিংসতা সীমিত থাকলেও ভোটার অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলকতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ নির্বাচন-পরবর্তী আলোচনায় কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। চূড়ান্ত মূল্যায়নের দিকে এখন নজর সবার।
প্রিয় তোষ দে ,কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।


















