এপস্টিন নথিতে গোপন করা ছয় ব্যক্তির নাম প্রকাশ করলেন রো খান্না
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রো খান্না এবার জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে গোপন রাখা ছয় ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছেন। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ নামগুলো জানান। এর আগে তিনি ও কেনটাকির রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টমাস ম্যাসি বিচার বিভাগে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পরিচয় গোপন করা হয়নি, এমন নথি পর্যালোচনা করেন। এর আগে এপস্টিনের ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশিত হয়েছে।
খান্নার প্রকাশ করা ছয় ব্যক্তি হলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্র্যান্ড ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রতিষ্ঠাতা লেসলি ‘লেস’ ওয়েক্সনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বহুজাতিক বন্দর ও লজিস্টিকস কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম, ইতালির রাজনীতিবিদ নিকোলা কাপুতো।
এ ছাড়া আরও তিনজন হচ্ছেন সালভাতোরে নুয়ারা, জুরাব মিকেলাদজে ও লিওনিক লিওনভ। তবে শেষের এই তিনজনের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়। খান্না বলেন, ‘দুই ঘণ্টায় যদি আমরা ছয়জনের নাম খুঁজে পাই, তাহলে ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে আরও কত নাম গোপন রাখা হয়েছে, তা কল্পনা করুন।’ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বলেন, নামগুলো চিহ্নিত করার পর বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করেন। তবে এখনো অনেক নাম গোপন রয়ে গেছে। লেসলি ওয়েক্সনারের সঙ্গে এপস্টিনের দীর্ঘদিনের আর্থিক সম্পর্ক ছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, এপস্টিনের আর্থিক উত্থানে ওয়েক্সনার বড় ভূমিকা রাখেন। সাম্প্রতিক নথিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) তাঁকে এপস্টিনের ‘সহষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে এপস্টিন–সম্পর্কিত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই।
প্রকাশিত নথিতে সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েমের সঙ্গে এপস্টিনের ই–মেইল যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। টমাস ম্যাসির দাবি, একটি ই–মেইলে এপস্টিনকে পাঠানো বার্তার প্রাপক ছিলেন তিনি। তবে তাঁর বিরুদ্ধেও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।
অন্য চারজন নিকোলা কাপুতো, সালভাতোরে নুয়ারা, জুরাব মিকেলাদজে ও লিওনিক লিওনভ—সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। এপস্টিন ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে যৌনকাজে প্ররোচিত করার অভিযোগ স্বীকার করেন এবং ১৩ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে তখন যৌনকর্মী পাচারের মামলা চলছিল।
গত মাসের শেষ দিকে এপস্টিন–সংক্রান্ত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার বেশি নথি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এসব নথিতে বিভিন্ন ব্যক্তি এপস্টিনের সঙ্গে ই–মেইল, যোগাযোগ বা অন্য সূত্রে যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে নথিতে কারও নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। সূত্র: প্রথম আলো


















