জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনের আগে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী মাসে হোয়াইট হাউজে তাকাইচিকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন।
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে দাবি করা জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি একজন রক্ষণশীল নেতা। জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বাধীন জোট বড় ধরনের জয় পেতে যাচ্ছে। তিনি এমন ব্যয় পরিকল্পনার জন্য জনসমর্থন চাইছেন, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে, পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন, যা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
জরিপগুলো বলছে, তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তাদের জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি (ইশিন) সংসদের ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে প্রায় ৩০০টি আসন পেতে পারে। বর্তমানে তারা খুব অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ও তার জোট যে কাজ করছে, তার জন্য তিনি শক্তিশালী স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। তাকে পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়া আমার জন্য সম্মানের।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের তুলনায় বিদেশি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারে বেশি আগ্রহী। জাতীয়তাবাদী ও প্রতিরক্ষা খাতে কঠোর অবস্থান নেওয়া তাকাইচিকে সমর্থন করা তার ডানপন্থী বিদেশি নেতাদের পাশে দাঁড়ানোর ধারারই অংশ।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে আসন্ন নির্বাচনের জন্য সমর্থন দেন এবং গত বছর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকেও সমর্থন করেছিলেন।
বিশ্লেষক আসুকা তাতেবায়াশির মতে, ট্রাম্পের সমর্থন জাপানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী মহল এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ভালো সংকেত হিসেবে দেখবে। এমনকি সাধারণ জনগণের মধ্যেও মি. ট্রাম্প কিছু পশ্চিমা দেশের তুলনায় জাপানে তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয়।
তবে জাপানের সরকারি মুখপাত্র কেই সাতো ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি নিশ্চিত করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৯ মার্চ তাকাইচিকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সাতো বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই সফর জাপান–যুক্তরাষ্ট্র জোটের অটুট বন্ধন পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ দেবে। সূত্র: রয়টার্স, জাগোনিউজ


















