Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিন্নমাত্রিক রূপকার সিরাজুল আলম খানের ৮৫তম জন্মদিন পালন নিউইয়র্কে: রাষ্ট্রচিন্তা ও মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর রাজনীতির অন্তর্গত সংকট নিয়ে গভীর আলোচনা

স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিন্নমাত্রিক রূপকার সিরাজুল আলম খানের ৮৫তম জন্মদিন পালন নিউইয়র্কে: রাষ্ট্রচিন্তা ও মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর রাজনীতির অন্তর্গত সংকট নিয়ে গভীর আলোচনা

স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিন্নমাত্রিক রূপকার সিরাজুল আলম খানের ৮৫তম জন্মদিন পালন নিউইয়র্কে: রাষ্ট্রচিন্তা ও মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর রাজনীতির অন্তর্গত সংকট নিয়ে গভীর আলোচনা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ষাট–সত্তরের দশকের ছাত্ররাজনীতির অন্যতম মহানায়ক সিরাজুল আলম খানের ৮৫তম জন্মদিন নিউইয়র্কে পালন করেছে জেএসএফ–বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেএসএফ–বাংলাদেশের সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিনের সভাপতি ও বাপসনিউজের সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংবাদিক শহিদ রাজু, জাগপা’র কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ ভূঁইয়া এবং সমাজসেবক হাসান প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, “সিরাজুল আলম খান দাদাভাই ছিলেন প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরের মানুষ। তিনি কোনো নেতার বক্তৃতা অনুসরণ করে নিজের গন্তব্য নির্ধারণ করেননি। জাতির ভবিষ্যৎ তিনি যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষণ করতেন, তা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে মেলেনি।” তিনি বলেন, রাষ্ট্র জন্মের পরপরই রাজনৈতিক দলকে দলপ্রধানের ব্যক্তিগত হাতিয়ারে পরিণত করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, তার অন্তর্নিহিত সত্য সিরাজুল আলম খান আগেভাগেই উন্মোচন করে গেছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “সত্তরের নির্বাচনে যখন ছয় দফার পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি হচ্ছিল, তখন পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগের প্রবল প্রভাব থাকা সত্ত্বেও ছাত্রলীগ ও ছাত্রনেতৃত্বই নির্বাচনী জয়ের শক্ত ভিত গড়ে দেয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর সেই যুবশক্তি ও ছাত্রনেতৃত্বকে আমরা ভুলে গেছি। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার আগে আমাদের সংগ্রামের মূল শ্লোগান ছিল গণতন্ত্র। অথচ রাষ্ট্র জন্মের পর সেই গণতান্ত্রিক চেতনার ধারাবাহিকতা আমরা রক্ষা করতে পারিনি।”
রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাকিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “পাকিস্তানি পার্লামেন্টে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হলো—এটি কি প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ছিল?”
সভাপতির বক্তব্যে হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, “৭২-এর সরকারটি মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশের সরকার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সাহস ও চেতনা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত না করে পাকিস্তানপন্থী জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়েই যুদ্ধ করা ছাত্র-যুবকদের স্বপ্ন ও চেতনাকে ধুলিসাৎ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “‘এক নেতা এক দেশ’ স্লোগানের আড়ালে বহুনেতৃত্বের সম্ভাবনাকে রুদ্ধ করা হয়। নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠতে দেওয়া হয়নি; বরং দমন-পীড়নের মাধ্যমে ভিন্নমতকে স্তব্ধ করা হয়েছে। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়—এই রাষ্ট্র আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র নেই।”
আলোচনা সভার শুরুতে প্রয়াত সিরাজুল আলম খান দাদাভাইসহ সকল জাতীয় নেতা, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা, এগারো দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, ২১ আগস্টসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আত্মত্যাগীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষে অংশগ্রহণকারীদের নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানজুড়ে সিরাজুল আলম খানের রাষ্ট্রচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর রাজনীতির সংকট এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অসমাপ্ত দায়িত্ব নিয়ে গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়।