আগস্টে পুলিশ হত্যায় কারা জড়িত—বিস্ফোরক দাবি রিফাত রশিদের
বিশ্বজিৎ ঘোষ :
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত পুলিশ হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) নেতা মাহদী হাসানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব বক্তব্য দেন।
সমাবেশে রিফাত রশিদ দাবি করেন, জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস এবং নাহিদসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জড়িত। তিনি প্রশ্ন তুলেন, “যদি তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না?”
নিজের বক্তব্যে রিফাত রশিদ আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকলেও দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জুলাই বিপ্লবকে সমুন্নত রাখতে নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে এ বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে।”
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী সহিংস ঘটনাগুলোকে কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রতিটি ঘটনার আইনি ও মানবিক দিক থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তারা মনে করেন, আন্দোলনের নামে সংঘটিত প্রাণহানি, পুলিশ হত্যা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।
বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা ও হত্যাকে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তাদের মতে, উত্তাল আন্দোলনের সময় জনরোষকে পুঁজি করে সুপরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডের শামিল হতে পারে।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, যদি এসব হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা আন্দোলনের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ জড়িত থাকেন, তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা উদঘাটন হওয়া জরুরি। কোনো বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানই বিচারহীনতার লাইসেন্স হতে পারে না। জুলাই মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে দেশে আইনের শাসনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এই অপরাধীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনার এখনই সময়—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
—বিশ্বজিৎ ঘোষ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ।


















