শেখ হাসিনাই বিকল্প—ভোট প্রহসনের প্রতিবাদে ঐক্যের ডাক, রাজপথে জনগণের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার
অধ্যাপিকা মোমতাজ শাহনাজ:
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে নানা প্রশ্ন, অভিযোগ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি কম থাকা, নির্বাচনের আগের সন্ধ্যা থেকেই কেন্দ্র দখলের অভিযোগ, ভোটের শতকরা হার নিয়ে অসঙ্গতি—এসব বিষয় নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেক স্থানে ভোটকেন্দ্র ফাঁকা দেখা গেছে; এমনকি মসজিদের মাইকিং করেও ভোটারদের কেন্দ্রে আনা যায়নি—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের চিত্রের মধ্যে অসামঞ্জস্য নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে অনেকের মতে, ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছে। গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার অনাগ্রহের চিত্রকে তারা গণঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান–এর আদর্শকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে গণমানুষের রাজনীতি করেছে—এমন দাবি দলটির নেতাকর্মীদের। তাদের বক্তব্য, প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও দলটি জনগণের শক্তিতে টিকে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে।
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নেতৃত্বের প্রশ্নে অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার দিক থেকে শেখ হাসিনা-ই হতে পারেন স্থিতিশীলতার প্রতীক। তাদের ভাষায়, “শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনাই”—কারণ সংকটকালে দৃঢ় ও মানবিক নেতৃত্বই জাতির জন্য আশ্রয়স্থল।
নির্বাচন-পরবর্তী আলোচনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে ঘিরেও তীব্র সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। সমালোচকদের অভিযোগ—ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করেও দলটি জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা—এসব অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যদিও এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন—তবুও জনমতের একাংশ মনে করছে, আদর্শগতভাবে দলটি মূলধারার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনি।
দেশের বিভিন্ন নাগরিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের সমঅধিকার রক্ষা এবং নারীর স্বাধীনতা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্র উন্মুক্ত রাখা—এগুলোই একটি আধুনিক রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়। তাই একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা মোমতাজ শাহনাজ বলেছেন—হতাশ না হয়ে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণের অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের রাজনীতি বারবার প্রমাণ করেছে—যারা গণমানুষের শক্তিকে অস্বীকার করেছে, তারা ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে। গণমানুষের দল কখনও থেমে থাকে না।”
বাংলাদেশের মানুষ শান্তি, উন্নয়ন ও মর্যাদাপূর্ণ গণতন্ত্র চায়—এটাই এখন সবচেয়ে বড় বার্তা।
অধ্যাপিকা মোমতাজ শাহনাজ ,সভাপতি, মহিলা আওয়ামী লীগ ।


















