যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সই: ভারতীয় কৃষকদের আন্দোলনের ঘোষণা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তির বিরোধিতায় রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ কৃষক সংগঠন সম্মিলিত কৃষক মোর্চা। ২০২১ সালে এই সংগঠনটিই বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারে নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে বাধ্য করেছিল।
সম্মিলিত কৃষক মোর্চা মূলত একাধিক কৃষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী ছাতার মতো শীর্ষ সংগঠন। সংগঠনটি আগামী কয়েক দিনে প্রতিবাদ ও ১২ ফেব্রুয়ারি হরতালের ডাক দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চুক্তির বিস্তারিত খুবই ধীরে ধীরে প্রকাশিত হওয়ার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই দেশের সব জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি করার পরিকল্পনা করেছে সংগঠনটি। ভারতীয় কৃষকসমাজের উদ্বেগ যে, মোদী সরকার কৃষিক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে অনেক ছাড় দিয়েছে।
যদিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়, তবে গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো বা বাতিল করতে সম্মত হয়েছে ভারত। এর মধ্যে রয়েছে ডিস্টিলার্স ড্রাইড গ্রেইনস (ডিডিজিএস), পশুখাদ্যের জন্য লাল সরগুম, সয়াবিন তেল, বৃক্ষ বাদাম এবং তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল। এই পদক্ষেপ খাদ্য ও পশুখাদ্যের খরচ কমাবে, তবে ভারতীয় কৃষকের ওপর চাপ বাড়াবে।
সম্মিলিত কৃষক মোর্চার জ্যেষ্ঠ নেতা অবিক সাহা বলেন, বাণিজ্য আলোচনায় কৃষি ছিল এক ধরনের নিষিদ্ধ বিষয়। এই সরকার সেই নিষেধ ভেঙেছে। তাই এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।
ভারতে কৃষকরা সবচেয়ে প্রভাবশালী ভোটার গোষ্ঠীর একটি। তাদের মধ্যে মিলিয়ন মিলিয়ন ছোট খামারী আছেন, যাদের জমির পরিমাণ দুই হেক্টরের (পাঁচ একর) কম। অতীতে তারা রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রভাব দেখিয়েছে। ২০২১ সালে, সম্মিলিত কৃষক মোর্চা ও অন্যান্য কৃষক সংগঠন এক বছরের দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করতে বাধ্য করেছিল।
এদিকে, কৃষকদের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছে ভারত সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বারবার বলেছেন, দুধ ও পোলট্রিসহ সংবেদনশীল কৃষিপণ্য আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে পরিবর্তিত (জিএম) ফসলের আমদানি নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি, যা আলোচনার সময় ভারতের জন্য লাল রেখা ছিল।
তবুও, ডিডিজিএসের আমদানি, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জিএম কর্ণ থেকে তৈরি, কার্যত বাজারে জিএম উপাদান প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। সাহার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে দরজা খুলে দিতে ও পরে সেটি পুরোপুরি খুলতে সুযোগ দিয়েছে।
ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বলেছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির ‘দরজা খোলার সুযোগ’ দিচ্ছে। তিনি এক্স পোস্টে লিখেছেন, ভারত মার্কিন কৃষকদের সুবিধার জন্য আমদানি শুল্ক কমাবে, যা ভারতীয় কৃষকদের ক্ষতির মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, মোদীর আদর্শিক মূল সংগঠন আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সংগঠন ‘ভারতীয় কৃষক সংঘের’ সাধারণ সম্পাদক মহিনী মিশ্রা বলেন, সরকার আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছে তারা জিএম ফসল আমদানির অনুমোদন দেবে না। আপাতত আমরা খুশি ও চুক্তিটিকে স্বাগত জানাই। সূত্র: ব্লুমবার্গ, জাগোনিউজ


















