কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় ধনঞ্জয় সাহার নতুন গ্রন্থ ‘পাঁচ দশকের পাঁয়তারা’র মোড়ক উন্মোচন
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রকাশিত হলো কবি ধনঞ্জয় সাহার নতুন গ্রন্থ ‘পাঁচ দশকের পাঁয়তারা’। বইটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় বইমেলার মহাশ্বেতা দেবী মঞ্চে। গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কবিতা একাডেমির চেয়ারম্যান, বরেণ্য কবি সুবোধ সরকার।
অনন্য ধারার এই গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন কবি ও কথাকার বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাতিসত্তার কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা। বইটিতে সংকলিত লেখাগুলো ছড়া ও কবিতার এক ভিন্নধর্মী সংমিশ্রণ, যেখানে ছন্দ-লয়ের অভিনব প্রয়োগ পাঠককে নিয়ে যায় নতুন এক সাহিত্যভূমিতে।
বই সম্পর্কে কবি সুবোধ সরকার বলেন,“কবি ধনঞ্জয় সাহা কবিতা ও ছড়ার মাঝখানে একটা শস্যভূমি আবিষ্কার করেছেন। সেখানে ছড়াও আছে, কবিতাও আছে—দুটোই পরস্পরের ভেতরে আলো হয়ে আছে।”
তিনি এই নতুন ধারার নাম দেন ‘ছড়াবিতা’। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বইটির কবিতাগুলো পাঠ করে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কবিতাগুলো তাঁর গভীরভাবে ভালো লেগেছে বলে জানান। পাশাপাশি তিনি সবাইকে বইটি কিনে পড়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, পাঠকের ভালো লাগাই হবে লেখকের সার্থকতা।
গ্রন্থের ভূমিকায় জাতিসত্তার কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা লেখেন, “এই গ্রন্থে সংকলিত স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও প্রবহমান গদ্যছন্দে লেখা কবিতাগুলো পরীক্ষামূলক ও অভিনব প্রয়াস। প্রবহমান গদ্যে রচিত ব্যতিক্রমী লেখাগুলো পাঠক-পাঠিকার চিত্তে নতুনভাবে দোলা দেবে।
”অন্যদিকে, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লেখায় বইটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ধনঞ্জয় সাহার কবিতার বড় শক্তি তাঁর গভীর ছন্দবোধ। ছন্দ জানেন বলেই তিনি তা ভাঙতে পারেন, আবার ভাঙার মধ্যেও এক ধরনের সুর বজায় রাখেন। এই ভাঙা-গড়ার খেলাই তাঁর কবিতাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। ভাষার উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ বিশেষভাবে লক্ষণীয়।তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বইয়ের প্রতিটি কবিতাই যেন একটি আলাদা জগৎ—যেখানে বিষয়বৈচিত্র্যের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে অনুভবের গভীরতা। ব্যক্তিগত বেদনা, একাকিত্ব ও ভালোবাসা থেকে শুরু করে সমাজ, সময় ও মানুষের চেনা বাস্তবতা—সবই উঠে এসেছে নতুন দৃষ্টিতে।
শব্দচয়ন ও শৈলীর দিক থেকে বইটি নিঃসন্দেহে ভিন্নমাত্রার এবং তাই পাঠকের বারবার পড়তে ইচ্ছে করে।
অনুষ্ঠানে লেখক ধনঞ্জয় সাহা তাঁর বক্তব্যে বইটি কেনা ও পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং যারা পড়বেন তাঁদের প্রতিও শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পাঠক যখন তাঁর লেখা পড়ে তা উপভোগ করবেন, তখনই তাঁর লেখালেখি সার্থক হবে।
সভা শেষে বড়িশা মোহনীয়া সাংস্কৃতিক সংস্থার মৌসুমী দাসসহ আরও অনেকে কবির কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠান শেষে বড়িশা মোহনীয়া সাংস্কৃতিক সংস্থার পক্ষ থেকে কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ধনঞ্জয় সাহাকে সম্মাননা উপহার প্রদান করা হয়।সাহিত্যপ্রেমী পাঠক ও কবিদের উপস্থিতিতে এই প্রকাশনা উৎসব কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার সাহিত্য আড্ডায় যুক্ত করল এক নতুন মাত্রা।


















