সিরাজুল আলম খানের ৮৫তম জন্মদিনে ‘রাজনীতি ও রাষ্ট্রভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা: সিরাজুল আলম খানের তত্ত্বেই আছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ—আবু সাঈদ খান
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম রূপকার, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক ও ঐতিহাসিক নিউক্লিয়াসের প্রধান সিরাজুল আলম খানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রাজনীতি, দর্শন ও রাষ্ট্রভাবনা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সিরাজুল আলম খানের রাজনীতি ও রাষ্ট্রভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে সিরাজুল আলম খান (এসএকে) ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু সাঈদ খান বলেন, “ইতিহাসের এক মহাকাব্যিক চরিত্র সিরাজুল আলম খান। তাঁর তত্ত্বের মধ্যেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ লুকিয়ে আছে। বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে আজও তাঁর চিন্তা-ভাবনা প্রাসঙ্গিক।”
তিনি আরও বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যের অবসান। কিন্তু আজও সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। মানুষে মানুষে বৈষম্যহীন, ধর্মে ধর্মে বিভাজনমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সময়ের বড় দাবি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে সিরাজুল আলম খানসহ যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের স্মৃতি প্রকৃত অর্থেই সম্মানিত হবে।”
আবু সাঈদ খান বলেন, ষাটের দশকের তরুণ সিরাজুল আলম খান আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’, যা স্বাধীনতার বীজ রোপণ করে। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফাকে তিনি এক দফা—স্বাধীনতার দাবিতে রূপান্তরিত করার কৌশল গ্রহণ করেন। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রশ্নে সিরাজুল আলম খানের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “তিনি বুঝেছিলেন—শুধু সরকার বদলালেই স্বাধীনতার লক্ষ্য পূরণ হয় না। প্রয়োজন রাষ্ট্রযন্ত্রের মৌলিক পরিবর্তন। সে কারণেই তিনি বিপ্লবী জাতীয় সরকারের কথা বলেছেন।”
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান। তিনি বলেন, “ষাটের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাঠের ও ভেতরের নেতা ছিলেন সিরাজুল আলম খান। জয় বাংলা স্লোগান থেকে শুরু করে স্বাধীনতার ভাবনার প্রতিটি স্তরে তাঁর অবদান রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কারণেই সিরাজুল আলম খান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।
সিরাজুল আলম খানের ভাতিজি ও ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব ব্যারিস্টার ফারাহ খান বলেন, “নিউক্লিয়াসের নয় বছরের পরিকল্পিত সংগ্রামের ফলই আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার পর যে স্বপ্নের জন্য মানুষ যুদ্ধ করেছিল, তা পূরণ হয়নি। সেই অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের জন্যই সিরাজুল আলম খান নতুন রাজনৈতিক পথের সন্ধান করেছিলেন।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “দুঃখজনকভাবে আমরা অনেক সময় প্রকৃত ইতিহাস ও প্রকৃত নায়কদের যথাযথ সম্মান দিতে পারিনি। তবে ইতিহাস কখনো চাপা থাকে না। একদিন সত্য তার নিজস্ব জায়গা নেবেই।”
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ছাত্রনেতা মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী সরকার, সিরাজ সিকদারসহ অন্যান্য বক্তারা। বক্তারা স্বাধীনতার আগে ও পরে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে সিরাজুল আলম খানের অবিস্মরণীয় ভূমিকা তুলে ধরেন।
সভা সঞ্চালনা করেন ব্যারিস্টার ফারাহ খান। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সিরাজুল আলম খানের অসংখ্য সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : হাকিকুল ইসলাম খোকন ।


















