শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করেই বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে: এম এ আলীম সরকার
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
শ্রমিকের মৌলিক অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করেই বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)-এর সভাপতি এম এ আলীম সরকার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন কাঠামো এমন হতে হবে, যাতে তাঁদের মৌলিক অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং মানবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়। একজন শ্রমিকের উপার্জন দিয়ে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা থাকতে হবে।
এম এ আলীম সরকার বলেন, শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের ওপর নির্ভর করেই দেশের শিল্প, অর্থনীতি ও উৎপাদনব্যবস্থা সচল থাকে। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমজীবী মানুষ আজ চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের মুনাফাকে একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না। বরং জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, মূল্যস্ফীতি এবং শ্রমের যথাযথ মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিজিপি সভাপতি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, সাপ্তাহিক ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, চিকিৎসাসুবিধা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং মালিকপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব।
বিবৃতিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবসম্মত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়সংগত বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না করে টেকসই শিল্পোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং এটি তাঁদের সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার।
বিবৃতিটি প্রেরণ করেন বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির (বিজিপি) সাধারণ সম্পাদক লেখক অমূল্য কুমার বৈদ্য।



















