ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শুরু করেনি। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বর্তমান প্রশাসন।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের চিলিকোথে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তবে আগের তুলনায় এর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যার কারণে ইরানের ড্রোন তৈরির কারখানাগুলোও সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি।’ তাঁর ভাষ্য, তিনি ক্ষমতায় আসার অনেক আগেই এই সংঘাতের অবসান হওয়া উচিত ছিল।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সে সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছিল। এর আগে গত বছরও দেশ দুটি আলোচনার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে: ওবামা
অন্যদিকে, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার কাছে মরো শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর যুক্তির সমালোচনা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
ওবামা বলেন, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না। তাঁর প্রশাসনের সময় তেহরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ওবামা বলেন, ‘আমাকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়নি। আমি কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছিলাম।’
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও সামরিক ঘাঁটিগুলো হামলার শিকার হয়েছে। এতে মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।
ওবামার দাবি, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে, যা দেশটির নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান কার্যত ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওবামা বলেন, ‘এ কারণেই তেলের দাম বেড়েছে।’
ইরান যুদ্ধের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ট্রাম্প ও ওবামার বিপরীতমুখী বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচার জোরদার হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা, জাগোনিউজ



















