ইসরায়েলকে শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ইসরায়েলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবিত প্যাকেজে ২০ হাজার MK-84 এবং ২০ হাজার BLU-117 বোমা রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত আরেকজন ব্যক্তিও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
চুক্তিটির বড় অংশের অর্থ আসবে যুক্তরাষ্ট্রের Foreign Military Financing (FMF) কর্মসূচির মাধ্যমে। এই ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক অর্থায়ন দেয় এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনে।
প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজটি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের জন্য প্রায় ২ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল, যেখানে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি বোমা ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ইসরায়েলের জন্য আরও ৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা দেখিয়ে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের কিছু বোমার একটি চালান সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
২ হাজার পাউন্ড ওজনের এসব বোমার বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে। কিছু অস্ত্র শক্তিশালী ও সুরক্ষিত স্থাপনা কিংবা ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ব্যবহৃত হয়। MK-84 একটি সাধারণ উদ্দেশ্যের ভারী বোমা, আর BLU-117 হলো এর একটি তাপ-সুরক্ষিত সংস্করণ। প্রস্তাবিত প্যাকেজে I-2000 Penetrator warhead-ও থাকার কথা জানানো হয়েছে, যা শক্ত কাঠামো ও ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের জন্য তৈরি।
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এসব অস্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক রয়েছে। তবে ইসরায়েল বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নিজেদের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য তারা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫০-এর বেশি মানুষ জিম্মি হয়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতাকেও সামনে আনছে। তবে অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়াটি এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এর পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে। সূত্র: এপি



















