Logo

আন্তর্জাতিক    >>   ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ২৫৫ ভোটে বিজয়ী, অলি আহমদ পেলেন ৮৮ — সংসদে সরাসরি ভোটে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ২৫৫ ভোটে বিজয়ী, অলি আহমদ পেলেন ৮৮ — সংসদে সরাসরি ভোটে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ২৫৫ ভোটে বিজয়ী, অলি আহমদ পেলেন ৮৮ — সংসদে সরাসরি ভোটে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ছিলেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। এর মধ্যে ৩৪৩টি ভোট পড়েছে এবং ছয়টি ব্যালট অব্যবহৃত ছিল। ব্যবহৃত সব ৩৪৩টি ব্যালটই বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলাফল অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ১৬৭। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। ভোট গণনা শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করেন। 

ভোটগ্রহণের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন। এরপর সংসদ সদস্যরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁকে আলিঙ্গন করেন। বিরোধী দলের নেতারাও তাঁকে অভিনন্দন জানান। 

এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবরের পর একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন আর দেখা দেয়নি; ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। 

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর ১২(৬) বিধি অনুযায়ী তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। 

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম তাঁর নামে পরিচালিত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন সংবিধান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা এবং সব নাগরিকের অধিকার সমুন্নত রেখে দায়িত্ব পালনের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাজনীতিতে নতুন তাৎপর্য সৃষ্টি করেছে।