বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় নতুন দায়িত্বে শক্তি দাস গুপ্তা: এইচআরসিবিএম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজের (এইচআরসিবিএম) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সমাজকর্মী শক্তি দাস গুপ্তা। তার এই নিয়োগকে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং মানবাধিকারভিত্তিক উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি এইচআরসিবিএম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সমন্বয়ক আশিস কুমার অঞ্জন এবং আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লাকি বাছার যৌথভাবে শক্তি দাস গুপ্তার নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেন। সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও গতিশীল করার পাশাপাশি দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই শক্তি দাস গুপ্তাকে উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়, শক্তি দাস গুপ্তা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হেম্পস্টেড, নাসাউ কাউন্টির বাসিন্দা। তার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংগঠনের মানবাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব তিনি সততা, নিরপেক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
এইচআরসিবিএমের নীতিমালা অনুযায়ী, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। একই সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী, বেআইনি কিংবা সংগঠনের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া যাবে না বলেও নিয়োগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়োগপত্রে আরও বলা হয়, উপদেষ্টা হিসেবে শক্তি দাস গুপ্তার মূল্যবান পরামর্শ, সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শক্তি দাস গুপ্তা বলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তার দায়িত্ব আরও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এটি শুধু একটি পদ নয়, বরং তার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। সংগঠন তার ওপর যে আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার, মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তার সাধ্য অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবেন। সংগঠনের নীতিমালা ও আদর্শকে সামনে রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।
শক্তি দাস গুপ্তা আরও বলেন, মানবাধিকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের বিষয় নয়; এটি প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সমঅধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, তার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য সংগঠনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। কোনো ধরনের বিভাজন বা সংঘাত নয়, বরং আইন, ন্যায়, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখাই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
শক্তি দাস গুপ্তা বলেন, দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি সংগঠনের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার সম্পর্কে মানুষের ধারণা আরও সুস্পষ্ট করা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শক্তি দাস গুপ্তার অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানবাধিকার বিষয়ে আগ্রহ এইচআরসিবিএমের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার, নিরাপত্তা, সমমর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনার ক্ষেত্রে তার পরামর্শ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নতুন এই দায়িত্বের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রমে দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংগঠনের নীতিমালা ও আদর্শ অনুসরণ করে শক্তি দাস গুপ্তার সক্রিয় অংশগ্রহণে এইচআরসিবিএম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাংগঠনিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।



















