কোন শর্তে পরমাণু চুক্তি ছাড়াই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তুত ডোনাল্ড ট্রাম্প?
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ এবং নতুন একটি পরমাণু চুক্তি—তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে শুরু থেকেই বিষয়টি সামনে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে পরিস্থিতি এখন ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। নতুন পরমাণু চুক্তি ছাড়াই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার সম্ভাব্য পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন একটি সমাধানের পথ খুঁজছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো পরমাণু চুক্তি না হলেও যুদ্ধ থেকে সরে আসার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করতে পারেন।
তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানও বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েক শত কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের অবসান, অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। ইরানের এসব দাবি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান দ্রুত কোনো সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কৌশলও থাকতে পারে তাদের।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই সরু জলপথ ব্যবহার করে। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত এর প্রভাব পড়ে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচল ঠেকানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ইরানের এসব বিধিনিষেধ ও টোল আরোপের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এরই মধ্যে পুরোপুরি খুলে গেছে। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাব এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে স্পষ্ট। সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় দেশটিতে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ। সামরিক অভিযান থেকে কী অর্জিত হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করা গেলে সেটিকে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর সে কারণেই ইরানের সঙ্গে নতুন পরমাণু চুক্তির শর্তটি শিথিল বা বাদ দেওয়ার বিষয়টি এখন বিবেচনায় আসতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি, জাগোনিউজ



















