ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই কি ডিজিটাল পেমেন্টে চার্জ বসাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী?
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ভারতের বহুল ব্যবহৃত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই (UPI) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ লোকসভায় পাস হওয়ার পর ভবিষ্যতে ইউপিআইসহ নির্দিষ্ট ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বা লেনদেন ফি আরোপের আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এখনই ইউপিআইতে কোনো চার্জ চালু হয়নি।
নতুন বিধানের ফলে কেন্দ্র ভবিষ্যতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় মাশুল আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ২০২০ সালে ইউপিআই ও রুপে ডেবিট কার্ডে শূন্য MDR নীতি চালুর পর এতদিন সাধারণভাবে এই লেনদেন বিনামূল্যেই হয়ে আসছিল।
সাধারণ গ্রাহকের জন্য কি ইউপিআই বন্ধ হচ্ছে বিনামূল্যে?
সরকারি অবস্থান ও বর্তমানে আলোচিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্সন-টু-পার্সন (P2P) লেনদেনে চার্জ বসানোর কথা নেই। সম্ভাব্য MDR মূলত বড় ব্যবসায়ী বা উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।
জুলাইয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বড় ব্যবসায়ীদের জন্য সামান্য MDR চালুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে ২ হাজার রুপির বেশি লেনদেন এবং নির্দিষ্ট বার্ষিক টার্নওভারের বড় ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য আওতায় রাখার কথা উঠে এসেছে। তবে এসব এখনো চূড়ান্ত সরকারি চার্জ কাঠামো নয়।
ইকোনমিক টাইমসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউপিআইয়ের ৯৫ শতাংশেরও বেশি লেনদেন ২ হাজার রুপির নিচে এবং সম্ভাব্য MDR থেকে এগুলোকে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম কেন?
আইনি পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—ভারতের ইউপিআই ব্যবস্থায় সম্ভাব্য MDR চালুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক স্বার্থের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।
ভারতের বিরোধীদের একাংশের যুক্তি, ইউপিআইয়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে ভিসা (Visa) ও মাস্টারকার্ডের (Mastercard) মতো আন্তর্জাতিক কার্ড নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা কমেছে। ফলে ইউপিআইতে ফি চালুর সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সংস্থাগুলোর জন্য সুবিধাজনক হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
তবে ট্রাম্পকে খুশি করতেই ইউপিআইতে সম্ভাব্য ফি চালুর পথ তৈরি করা হয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক অভিযোগ ও বিশ্লেষণের পর্যায়ে রয়েছে।
বরং সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, ইউপিআই অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং পেমেন্ট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে একটি টেকসই রাজস্ব কাঠামো প্রয়োজন।
ইউপিআইয়ের বিশাল লেনদেন
ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ইউপিআই এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। জুন ২০২৬-এ ইউপিআইয়ের মাধ্যমে প্রায় ২২.৭২ বিলিয়ন বা ২,২৭২ কোটি লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ২৮.৯২ লাখ কোটি রুপি।
এত বিশাল লেনদেনের অবকাঠামো পরিচালনায় ব্যাংক, পেমেন্ট সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিপুল ব্যয় হয়। সেই ব্যয় মেটাতে দীর্ঘমেয়াদে MDR চালুর বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা চলছিল।
এখনই কি চার্জ কাটবে?
না, লোকসভায় বিল পাস হওয়া মানেই ইউপিআইতে সঙ্গে সঙ্গে চার্জ চালু হয়ে যাওয়া নয়। নতুন আইনি কাঠামো ভবিষ্যতে সরকারকে নির্দিষ্ট ডিজিটাল লেনদেনে ফি আরোপের সুযোগ দিচ্ছে। কোন ধরনের লেনদেনে কত ফি নেওয়া হবে, তা আলাদা সরকারি সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হতে হবে। ফলে চায়ের দোকানে ৫০ রুপি কিংবা বন্ধুকে ৫০০ রুপি ইউপিআইয়ে পাঠালেই এখন থেকে অতিরিক্ত চার্জ কেটে নেওয়া হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।
তবে বড় ব্যবসায়িক লেনদেনে ভবিষ্যতে সামান্য MDR চালু হলে ইউপিআইয়ের এতদিনের ‘শূন্য খরচের’ মডেলে পরিবর্তন আসবে। আর সেই সম্ভাবনাই এখন ভারতের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইউপিআইতে চার্জ বসানোর আইনি পথ তৈরি হয়েছে, কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীর ওপর চার্জ চালু হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, নিউজ১৮, দ্য ইকোনমিক টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, জাগোনিউজ



















