Logo

আন্তর্জাতিক    >>   ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, উদ্দেশ্য কী?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, উদ্দেশ্য কী?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, উদ্দেশ্য কী?

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে ইরান সফরে গেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ কাজিম আল-জায়েদি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।

তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ইরাকের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা কর্মসূচি প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান ও ইরাকের নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ইউরোপের আঞ্চলিক সহযোগিতা মডেলের মতো সমন্বিত রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা গেলে দুই দেশের মধ্যে ট্রানজিট, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে বিদ্যমান নিরাপত্তা চুক্তিগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি তেহরানের প্রতি বাগদাদের কৌশলগত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড কখনোই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি তৈরির ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারে বাগদাদ সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করতেই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মন্ত্রীদের সঙ্গে তিনি তেহরান সফর করছেন বলে জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইরাক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে এগিয়ে গেছে। গত সপ্তাহে ইরাক সরকারের সঙ্গে প্রায় ৬০ বিলিয়ন (প্রায় ৬ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি। এসব চুক্তির মধ্যে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথে তেল রপ্তানির অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ইরনা, জাগোনিউজ