হরমুজে জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানকে নতুন আল্টিমেটাম যুক্তরাষ্ট্রের, মাস্কাটে আলোচনা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের বিষয়ে ইরানকে নতুন আল্টিমেটাম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত সময় দিয়ে তেহরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে যে, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে আর কোনো হামলা হবে না। অন্যথায় এর পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-এর সাংবাদিক বারাক রাভিদ (Barak Ravid)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তা সরাসরি এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা দাবি করেন, তিন সপ্তাহ আগে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) লঙ্ঘন করে ইরান হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যুদ্ধবিরতিকে কার্যত সমাপ্ত বলে ঘোষণা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজে নিরাপদ নৌ চলাচলের মতো মৌলিক অঙ্গীকারও যদি ইরান বাস্তবায়ন করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে আরও জটিল কোনো পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়নে দেশটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
এদিকে শনিবার (১১ জুলাই) ওমানের রাজধানী মাস্কাট (Muscat)-এ বৈঠকে বসেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি (Badr Albusaidi)। বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগেই ওমান নিজ উপকূলসংলগ্ন একটি দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ খুলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্রদের অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। এতে ইরান অসন্তুষ্ট হয় এবং দেশটির আলোচকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর চাপের কারণেই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmail Baghaei) শুক্রবার বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির ওমান সফরের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ও সামুদ্রিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান পালন করে আসছে এবং এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
একজন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের দুই দিন পর ইরান আবারও আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ ইরান করেনি; বরং কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনা ও সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রশ্নে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রয়েছে। তাদের মতে, ইরানের একটি অংশ আলোচনার পক্ষে থাকলেও অন্য অংশ তা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ওমানে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ থাকবে এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল অবাধ ও টোলমুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, গত তিন সপ্তাহের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনায় পারমাণবিক চুক্তি সম্পর্কেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে। সূত্র: অ্যাক্সিওস (Axios)



















