বেকারত্ব জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে, কার্যকর কর্মসংস্থান নিশ্চিতের দাবি বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বকে জাতীয় সংকট আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)। গত শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২৬ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির সভাপতি এম এ আলীম সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও লেখক অমূল্য কুমার বৈদ্য।
সভাপতির বক্তব্যে এম এ আলীম সরকার বলেন, দেশে বেকারত্ব দিন দিন ভয়াবহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ-তরুণী কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এর ফলে একদিকে যুবসমাজ হতাশা, অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের মানবসম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হলেও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হয়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
এম এ আলীম সরকার আরও বলেন, প্রতিবছর প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয় মাত্র প্রায় ৬০ হাজারের। ফলে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক নতুন বেকার যুক্ত হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের ধীরগতি, শিল্প ও উৎপাদন খাতে সীমিত কর্মসংস্থান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির বিষয়টি উদ্বেগজনক। এর পেছনের কারণ অনুসন্ধান করে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অর্থনীতি, শিক্ষা, ভূরাজনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি খাতের সব শূন্য পদে দ্রুত, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন করা, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পায়ন ও উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ ও নীতিগত সহায়তা প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে আধুনিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।
বক্তারা বলেন, বেকারত্ব কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সংকট। কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি। তাই সরকারকে অবিলম্বে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কর্মসংস্থানমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য প্রভাষক বিজন হালদার, নাজমা বেগম, জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানা, আল আমিন, সেলিম রেজাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



















