Logo

আন্তর্জাতিক    >>   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে নতুন মোড়, পাল্টাপাল্টি হামলায় ঝুঁকিতে শান্তি চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে নতুন মোড়, পাল্টাপাল্টি হামলায় ঝুঁকিতে শান্তি চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে নতুন মোড়, পাল্টাপাল্টি হামলায় ঝুঁকিতে শান্তি চুক্তি

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেনও বেজে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। সিরিক শহর, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থাপনা এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল। সেন্টকমের প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তত পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে।

বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরপরই পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

হামলার পর বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বাজতে শোনা যায়। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে। তবে রয়টার্সকে একজন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

সঙ্কটে যুদ্ধবিরতি

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর সেই যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।

শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী ‘কিকু’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সেন্টকমের দাবি, হামলাটি ইরান চালিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ‘এভার লাভলি’ নামের সিঙ্গাপুরের একটি কনটেইনার জাহাজেও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এই দুই ঘটনার পরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বার্তা

নতুন হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, শনিবারের এই হামলা আরও বড় সংঘাতের পূর্বাভাস হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমরা আর ধৈর্য ধরব না। তখন সামরিকভাবে সেই কাজ শেষ করতে বাধ্য হব, যা আমরা সফলভাবে শুরু করেছি। আর যদি তেমনটা ঘটে, তবে ইরান নামের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’ সূত্র: আল-জাজিরা, জাগোনিউজ