ফ্ল্যাটজুড়ে ৩০৯ অজগর! বিদ্যুৎ বিলের সূত্র ধরেই ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর কাণ্ড
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে ৩০৯টি অজগর (পাইথন) সাপ অবৈধভাবে লালন-পালন করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছে চীনের আদালত। বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ব্যবহার তদন্ত করতে গিয়েই পুলিশ এই বিস্ময়কর ঘটনার সন্ধান পায়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি ঘটনাটিকে বিরল ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর বিরুদ্ধে সংঘটিত ‘গুরুতর ক্ষতিকর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির আইনে পাইথন ‘গ্রেড-টু’ সুরক্ষিত প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। সরকারি অনুমতি ছাড়া এসব সাপ কেনাবেচা, প্রজনন বা পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের মার্চে। ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌ শহরের একটি পাহাড়ের পাদদেশে এক বৃদ্ধ বড় আকারের একটি সাপ দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। তদন্তে পুলিশ ধারণা করে, সাপটি কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রহ বা খামার থেকে পালিয়ে এসেছে। কারণ ওই অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবে পাইথন পাওয়া যায় না এবং ওই সময় সাপের চলাচলও তুলনামূলক কম থাকে। তদন্তে এক পেশাদার সাপ পালকের সহায়তা নেয় পুলিশ। তিনি জানান, পাইথন বাঁচিয়ে রাখতে সার্বক্ষণিক ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং আর্দ্র পরিবেশ নিশ্চিত করতে হয়। ফলে যিনি বিপুলসংখ্যক সাপ পালন করবেন, তার বিদ্যুৎ খরচও অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ার কথা।
এই তথ্যের ভিত্তিতে আশপাশের বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব যাচাই করে পুলিশ গুয়ো নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। অবিবাহিত ও বেকার ওই ব্যক্তি একাই একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। তদন্তে আরও জানা যায়, দি নামের আরেক ব্যক্তি নিয়মিত গুয়োর বাসায় যাতায়াত করতেন এবং অনলাইনে কেনা সাদা ইঁদুরের পার্সেল সংগ্রহ করতেন। বিক্রেতারা জানান, এসব ইঁদুর সাধারণত সাপসহ বিভিন্ন সরীসৃপ প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুয়ো নিয়মিত পাইথনের ছবি প্রকাশ করতেন এবং বিভিন্ন সময় সাপ বিক্রির ইঙ্গিতও দিতেন। তদন্তে এমন একটি লেনদেনের তথ্যও মেলে, যেখানে দি দুটি পাইথন এক হাজার ইউয়ানে (প্রায় ১৫০ মার্কিন ডলার) বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তীতে গুয়ো ও দিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গুয়োর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তারা দেখতে পান, অসংখ্য প্লাস্টিকের বাক্সে সারি করে রাখা হয়েছে অজগর সাপ। নিজের একটি শোবার ঘর ছাড়া বাকি দুটি শোবার ঘর এবং বসার ঘর পুরোপুরি সাপ পালনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
অভিযানে মোট ৩০৯টি পাইথন উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো একটি স্থানীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে পালন ও বিক্রির অভিযোগে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সূত্র: দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, জাগোনিউজ



















