Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে আনন্দধ্বনির বর্ণাঢ্য বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ — সংস্কৃতি, চেতনা ও মানবিকতার শক্ত বার্তা

নিউইয়র্কে আনন্দধ্বনির বর্ণাঢ্য বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ — সংস্কৃতি, চেতনা ও মানবিকতার শক্ত বার্তা

নিউইয়র্কে আনন্দধ্বনির বর্ণাঢ্য বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ — সংস্কৃতি, চেতনা ও মানবিকতার শক্ত বার্তা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
নান্দনিক আয়োজন, প্রাণবন্ত পরিবেশনা এবং প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতির শক্তিশালী বার্তা নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে আনন্দধ্বনি নিউইয়র্ক-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
গত ১২ এপ্রিল রোববার বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কুইন্সের কুইন্সবোরো পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১,২০০ প্রবাসী বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ৮০০ আসনের মিলনায়তনটি পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়।


অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে আনন্দধ্বনি-টিবিএন২৪, সহযোগিতায় ছিল কুইন্স সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইন্ক। পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা ও সফল বাস্তবায়ন করেন সংগঠনের পরিচালক অর্ঘ্য সারথী শিকদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রসার ও নতুন প্রজন্মের মাঝে এর চর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।


অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. সেজান মাহমুদ। তিনি মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য, আধুনিকতা এবং প্রবাসে এর সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে তার গাওয়া, লেখা ও সুর করা জনপ্রিয় গান “ভালবাসি আমাদের ঢাকা” পরিবেশনের সময় দর্শক-শ্রোতারা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আবহ।


অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন প্রবাসী শিল্পী, আবৃত্তিকার ও নৃত্যশিল্পীরা। ছিল একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য পরিবেশনা, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনাসহ বাঙালিয়ানা ঘিরে নানা বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।


এবারের আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল “আনন্দধ্বনি ঘোষণাপত্র” উপস্থাপন, যেখানে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, যুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে বাংলা সংস্কৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও লোকজ ঐতিহ্য কেবল সাংস্কৃতিক উপাদান নয়—এগুলোই বাঙালির আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি।


এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় যখন বিভেদ, সংঘাত ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন সংস্কৃতি হয়ে উঠতে পারে মানবিক সংলাপের শক্তিশালী মাধ্যম এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম পথ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়াকে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়।


২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আনন্দধ্বনি প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে থেকেও শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার এই প্রয়াসকে তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা হিসেবে বিবেচনা করে।
আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা জোরদার করা এবং তাদের মধ্যে আত্মপরিচয়ের বোধ জাগ্রত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।


অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য ছিল উন্মুক্ত প্রবেশের সুযোগ এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা, যা দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণকে আরও সহজ করেছে।


অনুষ্ঠান শেষে কো-চেয়ারপার্সন ডা. রাজশ্রী সাহা রায় মুনমুন আয়োজনে অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পী, কলাকুশলী, পৃষ্ঠপোষক, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সকলকে সুস্থ, সুন্দর ও শুদ্ধ সংস্কৃতি ধারণ ও চর্চার আহ্বান জানান।


সবমিলিয়ে, আনন্দধ্বনির এই বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; বরং প্রবাসে বাঙালির ঐক্য, আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।