Logo

আন্তর্জাতিক    >>   বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে এখানো বিতর্ক কেন?

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে এখানো বিতর্ক কেন?

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে এখানো বিতর্ক কেন?

সাজ্জাদ হোসেন সবুজ:
বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। কিন্তু এই মীমাংসিত বিষয়টি নিয়ে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও বিতর্ক চলছে। 
মূলত: বঙ্গবন্ধুকে যারা জাতির জনক হিসেবে মানতে নারাজ  এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য তার অবিস্মরণীয় অবদানকে স্বীকার করতে চায় না তারাই এই মীমাংসিত বিষয়টি নিয়ে স্বাধীনতার ৫৫?বছর পরও  বিতর্ক করে যাচ্ছেন। যার উদ্দেশ্য অত্যন্ত পরিষ্কার অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর পাহাড়সম নেতৃত্বকে খাটো করা ও অসম্মান করা। 
এবার ফিরে তাকানো যাক কোন প্রেক্ষাপটে বাঙালী জাতির ইতিহাসের এই মহানায়ক স্বাধীনতার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৭১ এর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অতর্কিত গণহত্যা অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে এবং ওই দিন রাতেই বাঙালী জাতির সিংহপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পূর্বে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর ওই ঘোষণা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়।
১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকদের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।


বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতারের আগে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পাশাপাশি যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। সেই সময় বাস্তবতা ও নিরাপত্তা জনিত কারণে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার এই ঘোষণা নথি সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তৎকালীন ইপিআর-এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে ঘোষণাটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাটে অবস্থিত স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রামের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান ও ২৭ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার মূল্যবান দলিলটি সেখানে লিপিবদ্ধ হয়েছে এভাবে ‘ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছেন, যার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ, ১৯৭১।’
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ ডকুমেন্টস-এ ওই ঘোষণার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হয়েছিল। ঘোষণায় বলা হয়, ‘এই-ই হয়তো আপনাদের জন্য আমার শেষ বাণী হতে পারে। আজকে থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি, যে যেখানেই থাকুন, যে অবস্থাতেই থাকুন এবং হাতে যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ততদিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান-যতদিন না দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর শেষ সৈনিকটি বাংলাদেশের মাটি থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হচ্ছে।’
’৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ’৭৫-এর আগস্ট পর্যন্ত এই ঘোষণা নিয়ে দেশে এমনকি সারা বিশ্বে আদৌ কোনো বিতর্ক ছিল না। সমগ্র বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্ব একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছিল যে বঙ্গবন্ধুই ২৬ মার্চের ১ম প্রহরে এ দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
এমনকি সামরিক শাসনামলে জে. জিয়াও স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কে নিজেকে জড়িত করে কোনো দাবি উত্থাপন করেননি। পরবর্তীতে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দল গঠন করে তিনি যে কিছুদিন বেসামরিক শাসন পরিচালনা করেন তখনো স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছেন বলে কোনো দাবি উত্থাপন করেছেন বলে জানা যায়নি। অধিকন্তু, ’৭২ সালে তৎকালীন সাপ্তাহিক বিচিত্রায় স্বনামে লিখিত এক নিবন্ধে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে ’৭১ এর ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসমুদ্রের সামনে বঙ্গবন্ধুর জ্বালাময়ী ভাষণে অন্তর্ভুক্ত “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ’’ বক্তব্যটি আমাদের জন্য ছিল স্বাধীনতা ঘোষণার একটি গ্রিন সিগন্যাল।
‘৭২ থেকে ’৮১ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জে. জিয়াউর রহমান কি কখনো এমন দাবি করেছেন যে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক? পরাবর্তীতে হঠাৎ করে এক সময় বিএনপির পক্ষ থেকে এ মর্মে প্রচারণা শুরু হয় যে মেজর জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক। 
প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় কিংবদন্তি ছাত্র নেতা তোফায়েল আহমেদ ডেইলি ষ্টার পত্রিকায় প্রকাশিত (২৫ মার্চ ২০২৩) এক নিবন্ধে লিখেছেন-
বঙ্গবন্ধু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তবেই স্বাধীনতা ঘোষণা করার রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন করেন। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণেও তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে বক্তব্য পেশ করেছেন। বঙ্গবন্ধু সবসময় চেয়েছেন তিনি আক্রান্ত হবেন, কিন্তু আক্রমণকারী হবেন না। সেজন্যই ২৫ মার্চ জিরো আওয়ারে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যেটা জেনারেল নিয়াজীর জনসংযোগ কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিক তার 'উইটনেস টু সারেন্ডার' গ্রন্থে লিখেছেন, 'When the first shot had been fired, 'the voice of Sheikh Mujibur Rahman came faintly through on a wavelength close to that of the official Pakistan Radio. In what must have been, and sounded like, a pre-recorded message, the Sheikh proclaimed East Pakistan to be the 'People's Republic of Bangladesh.' It said, 'This may be my last message. From today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh, wherever you are and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.'" (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-৭৫)
প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য এরকম একটি চূড়ান্ত ঘোষণায় পৌঁছাতে বঙ্গবন্ধুকে দীর্ঘ ২৪টি বছর বাঙালি জাতিকে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্য স্থির করে, ধাপে ধাপে জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনা করে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে, শাসকগোষ্ঠীর সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে, জেল-জুলুম-হুলিয়া-ফাঁসির মঞ্চকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ী শক্তি নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়েছে। একদিনে হয়নি। বহু বছর ধরে, অগণিত মানুষের আত্মদানের মধ্য দিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষণাকে শিরোধার্য জ্ঞান করেছে। ৭১ এর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত এই ঘোষণাটিই পরে ১০ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রতিষ্ঠিত 'বাংলাদেশ গণপরিষদ' কর্তৃক গৃহীত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ৬ নম্বর প্যারায় অনুমোদিত হয়ে সাংবিধানিক বৈধতা অর্জন করেছে। বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতার ঘোষণাই ২৬ মার্চ দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম বেতার থেকে এম এ হান্নানের কণ্ঠে বারবার প্রচারিত হয়েছে। ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কোনো রেকর্ড নেই। এমনকি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে 'প্রামাণ্যকরণ কমিটি'র চেয়ারম্যান মফিজউল্লাহ কবীর ও হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে প্রকাশিত 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র' সংকলনের ৩ নং খণ্ডে আছে, 'জিয়াউর রহমান মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে ২৭ মার্চ ঘোষণা দেন।'
কিন্তু ২৬ তারিখ তো যুদ্ধ শুরু হয়েছে। জেনারেল শফিউল্লাহ, খালেদ মোশাররফ, মেজর রফিক ইতোমধ্যে পক্ষ ত্যাগ করে যুদ্ধ শুরু করেছেন। সুতরাং, ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কথা মোটেও সত্য না। যারা ২৬ মার্চ জিয়ার ঘোষণার কথা বলে, তারা অসত্য কথা বলে। বাস্তবের সঙ্গে যার কোনো মিল নেই। ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চের ভাষণে রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করে একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, 'সপ্তাহ খানেক আগেই আমার উচিত ছিল শেখ মুজিবুর রহমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা...। ...কেননা কয়েকটি শর্ত দিয়ে সে আমাকে ট্র্যাপে ফেলতে চেয়েছিল। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সে আক্রমণ করেছে। এই অপরাধ বিনা শাস্তিতে যেতে দেওয়া হবে না।' এবং এই একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে সামরিক আদালতে বিচার হয়। সামরিক শাসক কতটা প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিল যে আমার মতো একজন ক্ষুদ্র কর্মীকেও আমার অনুপস্থিতিতে সামরিক আদালতে বিচার করল।
একই বছরের ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণের কথা উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “বাঙালির ইতিহাসের পরমাকাঙ্ক্ষিত দিন ৭ই মার্চ। সেদিন ছিল রোববার। সংগ্রামী বাংলা সেদিন অগ্নিগর্ভ, দুর্বিনীত। বঙ্গবন্ধু যখন 'ভাইয়েরা আমার' বলে বক্তৃতা শুরু করেন, জনসমুদ্র পিনপতন নিস্তব্ধতার মধ্যে ডুবে যায়। সেদিন নেতার বক্তৃতার শেষাংশ 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' বস্তুত এটাই ছিল বীর বাঙালির জন্য স্বাধীনতার ঘোষণা।”
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে একটি ভূখন্ডের, যার নাম বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেট আজ পরিণত হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেটে। সেদিনের ১২৯ ডলার মাথাপিছু আয়ের দেশটিতে বর্তমান মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৯শ’ ৬১ মার্কিন ডলার। সময় পেরিয়েছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও এগিয়েছে। মাথাপিছু আয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি, বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ব্যবহার এবং সম্পদ উৎপাদন ও আহরণ দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ দেশ আখ্যা দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসে দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই বিশাল অর্জনের পেছনে যেই মানুষটির অবদান সবচেয়ে বেশী তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অথচ কি দুর্ভাগ্য আমাদের সেই মহানায়ককে স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে জীবন দিতে হলো। যার স্বাধীনতার ঘোষণার পর এদেশের মুক্তিকামী অকুতোভয় মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়েছিল এবং নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল সেই ঘোষণা নিয়ে আজও বিতর্ক চলছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের কবে অবসান হবে কেউ জানে না। 
বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। তিনি কোন একটি দলের একক সম্পদ নন, এই সম্পদ সমগ্র বাঙালি জাতির। তাঁকে অস্বীকার করা মানে বাঙালি জাতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ইতিহাসকে অস্বীকার করা। তাঁকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন মানে বাঙালি জাতি ও স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা জানানো। 
আজ বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। আসুন দলমত নির্বিশেষে বাঙালী জাতির মহানায়ক এবং ইতিহাসের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও ৩০ লক্ষ শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাদের অসীম আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাদের প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন করি। পাশাপাশি তাদের স্বপ্ন অর্থাৎ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নতুন শপথ গ্রহণ করি। 
সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, সিনিয়র সাংবাদিক এবং ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার।