নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস
প্রাইমা হোসাইন :
আজ ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীর অধিকার, মর্যাদা, সমতা ও ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন হিসেবে এই দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবিকা সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা বিস্তার এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে নারীরা ভোটাধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সমতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো কয়েকটি দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে “নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সমতা”। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনগুলো নারীর অধিকার, নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে আনছে।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও সংগঠক প্রাইমা হোসাইন বলেন, “নারী দিবস শুধু একটি উদযাপনের দিন নয়, এটি নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমরা চাই নারীরা শিক্ষিত, আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষমতায়িত হোক এবং সবাই মিলে একটি সমতার বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি।”
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীর উন্নয়ন ছাড়া একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারী-পুরুষের সমান অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগ নিশ্চিত করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রাইমা হোসাইন, সংগঠক ও সমাজ সেবিকা।


















