Logo

আন্তর্জাতিক    >>   যুক্তরাষ্ট্রে আইসের হাতে আটক বাংলাদেশি পলাশ সরকার: বিপর্যস্ত পরিবারের জরুরি সহায়তার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রে আইসের হাতে আটক বাংলাদেশি পলাশ সরকার: বিপর্যস্ত পরিবারের জরুরি সহায়তার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রে আইসের হাতে আটক বাংলাদেশি পলাশ সরকার: বিপর্যস্ত পরিবারের জরুরি সহায়তার আহ্বান

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর হাতে আটক হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি পলাশ সরকার। পেনসিলভেনিয়ার একটি আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে তিনি আইসের হাতে গ্রেপ্তার হন বলে জানা গেছে। আকস্মিক আটক হওয়ায় তাঁর ইন্দোনেশিয়ান স্ত্রী, পাঁচ বছর বয়সী সন্তান এবং পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন।
পরিবারের টিকে থাকা এবং আইনি লড়াই চালিয়ে নেওয়াই যখন কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন পলাশের স্ত্রী বাধ্য হয়ে ‘গোফান্ড’ তহবিল খুলেছেন। ইতোমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পলাশ সরকার এ বছরের ৩ জুলাই পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় আইস কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের (অ্যাসাইলাম) আবেদন করেন। তবে নির্ধারিত ইন্টারভিউয়ের দিনই তাকে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।
পলাশের স্ত্রী জানিয়েছেন, আটক হওয়ার পর থেকে তাকে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, লুইজিয়ানা হয়ে বর্তমানে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০ জনের সঙ্গে তিনি একই ঘরে আছেন। চার দীর্ঘ মাস পার হয়ে গেছে—ফিরে আসার আশা অনিশ্চিত।
পলাশ সরকারের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
“আইনি ফি ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে গিয়ে আমরা সব সঞ্চয় হারিয়েছি। এখন নিজেই সন্তানকে দেখাশোনা করছি, কিন্তু কোনো সম্পদ আর অবশিষ্ট নেই। জামিন এবং আইনজীবীর জন্য জরুরিভাবে অর্থ প্রয়োজন।”
গোফান্ড তহবিলে সংগৃহীত অর্থ ব্যয় করা হবে ,আইনজীবীর ফি,দৈনন্দিন খরচ, এবং শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণে।
স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, পলাশ সরকারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজারো অভিবাসীর অনিশ্চিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোরতা—পরিসংখ্যানে উদ্বেগ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী , সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৪ লাখ অভিবাসীকে ডিপোর্ট করা হয়েছে, ১৬ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম মাসেই ৩৭,৬৬০ জন অভিবাসীকে দেশান্তরিত করা হয়েছে, বর্তমানে আইসের হেফাজতে রয়েছেন ৫৯,২০৭ জন অভিবাসী।
এই কঠোর বাস্তবতার কারণে দক্ষিণ এশীয়, লাতিনোসহ অভিবাসী কমিউনিটিগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। সূত্র: হাকিকুল ইসলাম খোকন