সন্ত্রস্ত অভিবাসী সমাজের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিলেন — এটর্নি জান্নাতুল রুমা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির হঠাৎ পরিবর্তনে উদ্বেগ ও আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী কঠোর পদক্ষেপে বছরের পর বছর অপেক্ষমাণ আশ্রয় আবেদনকারীরা এখন আবেদন জমা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইন্টারভিউর নোটিশ পাচ্ছেন। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রস্তুতিহীনতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
নিউইয়র্কের অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন এটর্নি জান্নাতুল রুমা বলেন, আবেদন সাবমিটের পর এত দ্রুত শুনানির নোটিশ পাওয়া অস্বাভাবিক এবং বিব্রতকর। অনেকেই প্রস্তুতির সুযোগ না পেয়েই অংশ নিচ্ছেন ইন্টারভিউতে। তাঁর পরামর্শ, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার আগে সমস্ত তথ্য-উপাত্ত ও দলিল-প্রমাণ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা উচিত, যাতে দ্রুত ডাকা হলেও জটিলতায় না পড়তে হয়।
রুমা জানান, সাধারণত এসাইলাম আবেদন জমার পাঁচ মাস পর ওয়ার্ক পারমিট আসে, এরপর ইন্টারভিউর অপেক্ষা শুরু হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে পড়েছে। এতে আবেদনকারীদের মতো আইনজীবীরাও বিপাকে পড়েছেন।
তিনি আশ্রয়প্রাপ্ত বা গ্রীনকার্ডধারীদের প্রতি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজ দেশে ঘনঘন সফর বা দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলতে পারেন—রাজনৈতিক নিপীড়নের আশঙ্কা দেখিয়ে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা কীভাবে নিরাপদে দেশে ফিরছেন? এতে পুনরায় প্রবেশের সময় জিজ্ঞাসাবাদ বা জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘ সময় দেশে থাকতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া ও বাইরে গেলে সবসময় আইডি বহন করা বুদ্ধিমানের কাজ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, জরিমানা বা ছোটখাটো অপরাধের কারণে অনেকের ভিসা বাতিল হচ্ছে। রুমা জানান, আগে যেসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না, এখন সেগুলোই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কেউ কেউ গোপনে কাজ করায় বা নিয়ম ভাঙায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন নাগরিক বশির আতাল্লা ও তাঁর স্ত্রী কানাডা থেকে ফেরার পথে ভারমন্ট সীমান্তে সিবিপি কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন। আতাল্লা জানান, তাঁকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে জোর করে ফোন ও ইমেল তল্লাশি করা হয়। এমনকি একটি কাগজে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়। একইভাবে কানেকটিকাটের চিকিৎসক লিসা এন্ডারসন ও দুই মার্কিন এটর্নি নিকোল মিসারোনি ও কারমেন বেলো হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে ‘দেশত্যাগের নির্দেশ’-সংবলিত রহস্যময় ই-মেল পেয়েছেন, যদিও তাঁরা সবাই মার্কিন নাগরিক। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।
অভিবাসন ইস্যুতে আদালত ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনাও বেড়েছে। ম্যারিল্যান্ডের ফেডারেল জজ জেমস বোয়াসবার্গ জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের এল সালভাদরে পাঠানোর ঘটনায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ফৌজদারি আদালত অবমাননার মুখে পড়তে পারেন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সারা যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রতিবাদ কর্মসূচি। ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে দেশব্যাপী ‘ন্যাশনাল ডে অব অ্যাকশন’। নিউইয়র্কসহ ৫০টি স্টেটের ৪ শতাধিক স্থানে অভিবাসন-বিরোধী নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হবে। অভিবাসন, মানবাধিকার, শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো এতে অংশ নিচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রায়ান্ট পার্কে দুপুর ১২টায় প্রধান সমাবেশ হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
বক্তাদের অভিযোগ, আইসের অভিযানে অবৈধ অভিবাসীর পাশাপাশি গ্রীনকার্ডধারী ও নাগরিকরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁদের মতে, অন্যায় গ্রেফতার ও হয়রানি রোধে আইস বিলুপ্ত করা জরুরি।
এটর্নি জান্নাতুল রুমা অভিবাসীদের উদ্দেশে বলেন,
“বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন মেনে চলা, পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া এবং সতর্ক থাকা ছাড়া নিরাপদ বিকল্প নেই।” সূত্র: হাকিকুল ইসলাম খোকন।



















